Chor Bagan Incident

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনার পরে মৃতের চোখ চুরির মিথ‍্যা খবরে বাংলাদেশ যোগ! কোচবিহার থেকে গ্রেফতার আইনুল হক নামে এক ব্যক্তি, তদন্তে এসটিএফ

ধৃতের নাম আইনুল হক। আইনুল কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় এলাকার তাপুরহাটের বাসিন্দা।তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ।

ধৃতের নাম আইনুল হক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৭

গতবছরে বারাসত মেডিকেলে মৃতের চোখ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনা বলে চালিয়ে মিথ্যা খবর ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় কোচবিহার থেকে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ মিলেছে বলে কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে। তাঁকে জেরা করতে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের একটি দল কোচবিহার গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ধৃতের নাম আইনুল হক। আইনুল কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় এলাকার তাপুরহাটের বাসিন্দা। ঘটনার পরে আইনুল সমাজমাধ‍্যমে দাবি করে, চোরবাগানের মৃতের চোখ চুরি করে নেওয়া হয়েছে। ভিডিয়োটির ওপরে একটি মহিলাকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে অভিযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। যদিও ঘটনাটি ঘটনাটি ২০২৫ সালের। বারাসত মেডিকেলে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়া যুবকের পরিবার অভিযোগ করেছিল। ওই দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করে কলকাতায় ফেরার সময় ওই পরিবারের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। সেদিন মমতার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।

কিন্তু সেই ঘটনার ভিডিয়োকে চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের পরিবারের সঙ্গে এমন হয়েছে বলে আইনুল দাবি করে। যদিও পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হওয়া কোনও পরিবারের সদস্যই এমন অভিযোগ করেননি। অর্থাৎ খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেছে লালবাজার। সোমবার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, আইনুলের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু লোকের সঙ্গে কথা বলার প্রমাণ মিলেছে। তবে বাংলাদেশের লোকেদের সঙ্গে কথা বলার পরেই এই ভিডিয়োটি তৈরি করা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল।

আইনুল হকের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ৩৫৩(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, আইনুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি দল কোচবিহার যাচ্ছে। আইনুলের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগ কেন তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পাশাপাশি আইনুলের পরিচয়পত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনুলকে এই মামলায় কলকাতা পুলিশ হেফাজতে নিতে পারে বলেও সূত্রের খবর।

এ ছাড়াও, চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল। তিনি বলেন, “ মৃতের সংখ্যা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের হেল্পলাইনে যাঁদের ফোন এসেছিল তাঁদের প্রত্যেককেই সাহায্য করা হয়েছে। হাসপাতালে মৃতদের সংখ্যা জানানো হয়েছে।” যা বলা হচ্ছে গোটাটাই ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল।


Share