Coal Scam

কয়লা পাচার মামলায় সাতসকালে ইডি অভিযান, দিল্লি, কলকাতা-সহ রাজ‍্যের নয়টি জায়গায় চলছে তল্লাশি

বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের বাড়িতেও হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। ২-৩ দিন আগে তিনি বুদবুদ থানার দায়িত্বে এসেছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৩

কয়লা পাচার মামলায় কলকাতা-সহ রাজ্যের ন’টি ঠিকানায় পৌঁছে গিয়েছে ইডির আধিকারিকেরা। দিল্লিতেও একটি দল তল্লাশি চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের ন’জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছেন তাঁরা। ২০-২৫ জন ইডি আধিকারিকের দল ভাগ হয়ে তল্লাশি অভিযানে নেমে পড়েছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। জানা গিয়েছে, বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের বাড়িতেও হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। ২-৩ দিন আগে তিনি বুদবুদ থানার দায়িত্বে এসেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অবৈধ ভাবে কয়লা পাচারের সাহায্য করা, টাকা পাচার এবং কয়লা মাফিয়াদের কাছ থেকে প্রটেকশন মানি নিয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি সাসপেন্ড (নিলম্বিত) হয়েছিলেন। তখন তিনি বারাবনি থানার ওসি ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছিল।

ইডি সূত্রের খবর, পান্ডবেশ্বরের বালি মাফিয়া প্রবীর দত্তের বাড়িতে ইডি আধিকারিকেরা গিয়েছেন। তাঁর একটি বাড়ি পানাগড়েও রয়েছে। সেখানে পৌঁছেছেন ইডির তদন্তকারীরা। জামুড়িয়া বাজার সংলগ্ন পাঞ্জাবি মোড় এলাকায় ব্যবসায়ী রমেশ বনসলের বাড়ি, তাঁর দুই পুত্র সুমিত বনসল এবং অমিত বনসলের বাড়িতেও ইডি সকাল থেকে তল্লাশি চলছে। এর পাশাপাশি জামুড়িয়ার পঞ্জাবি মোড়ে একটি হার্ডওয়্যারের দোকান এবং একটি গুদামেও ইডি আধিকারিকেরা গিয়েছেন। জামুড়িয়া হাটতলা এলাকার বনসল হার্ডওয়্যার নামের একটি দোকানেও তল্লাশি চলছে।

উল্লেখ্য, কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ইডি আধিকারিকেরা তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং সংস্থার দফতরে ইডি তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই দিন কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা সঙ্গে ছিলেন। পরে কয়েকটি ফাইল এবং ল‍্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, ইডি তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত তথ্য চুরি করতে এসেছে। তিনি দলীয় কাগজপত্র নিয়ে চলে এসেছেন। পাল্টা অভিযোগ আনে ইডিও। তাঁরা জানায়, দুটি ঠিকানাতেই মুখ্যমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ তল্লাশি অভিযান চলছিল। সেই সময় তিনি ঢুকে পড়েন। এর পরেই বিভিন্ন ভাবে তদন্তে বাধা দেন। বাজেয়াপ্ত করার জন‍্য অপরাধ সংক্রান্ত নথি নিয়ে তিনি চলে গিয়েছেন।

এই ঘটনা নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাই কোর্টে। মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় দু’টি মামলা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেক্সপিয়র সরণি থানায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত একটি মামলা রুজু করে। আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে করা এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত করতে পারবে না। সমস্ত ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ‍্যাক কান্ডের মামলার ফের শুনানি রয়েছে।


Share