Assembly Election 2026

‘হিংসা এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হবে, কোনও অনিয়ম বরদাস্ত নয়,’ রাজ‍্যে এসে জানিয়ে দিলেন মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার

মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ। কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ভোটের কাজে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পেলে কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩১

রাজ্যে অবাধ ও হিংসামুক্ত ভোট করাতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর বলে জানালেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ। কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ভোটের কাজে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পেলে কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, বৈধ কোনও ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, এ বার পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা বুথ থাকবে এবং কোনও বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা হবে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি বুথে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং মোবাইল ফোন রাখার নির্দিষ্ট জায়গাও রাখা হবে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিংহ সান্ধু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ বলেন, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির লক্ষ্যেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “এর লক্ষ্য হল বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া।” তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তিনি জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হয়েছে, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার পরে দেখা গেছে প্রায় ৪-৫ শতাংশ ভোটার নিজেদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেননি। তাঁদের ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবার প্রায় ৭-৮ শতাংশ ভোটার নাম ম্যাপ করালেও কিছু তথ্যগত ত্রুটি থেকে গিয়েছে। সেই কারণেই তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।

বিবেচনাধীন প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার ভোট দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি জ্ঞানেশ। তিনি বলেন, আদালত নিযুক্ত বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ১০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জ্ঞানেশ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় ভোট হবে, সে বিষয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জ্ঞানেশ জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দিল্লিতে ফিরে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক আক্রমণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জ্ঞানেশ বলেন, “ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। সকলের বাক্‌স্বাধীনতা আছে। রাজনৈতিক দল কিছু বলতেই পারে। তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা রাজনৈতিক মন্তব্যের উত্তর দিই না।” তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচন কমিশন কোনও রাজনৈতিক মন্তব্যের জবাব দেয় না।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও কয়েকটি পদক্ষেপের কথাও জানান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, “ভিভিপ্যাটের সঙ্গে ইভিএমের তথ্যে গরমিল দেখা গেলে, পুরোটাই পরীক্ষা করে দেখা হবে। আর তা কাউন্টিং এজেন্টের সামনেই করা হবে।” নির্বাচনের দিন দু’ঘণ্টা অন্তর কমিশনের অ্যাপ এবং সাইটে ভোটের হার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্ঞানেশ। কোনও প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের পর সাত দিনের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষা করানো যাবে।

জ্ঞানেশ কুমার জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে কমিশন সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। কোনও ধরনের কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটের দায়িত্বে থাকা সব আধিকারিককে কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই কাজ করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতার নির্দেশে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠলেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।


Share