Special Intensive Rivision

অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে ফের হাই কোর্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে নির্বাচন কমিশন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ট্রাইবুনাল গঠন নিয়ে হবে পৃথক বৈঠক

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ার তদারকিতে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। তাঁর কথায়, “বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা বর্তমানে কাজ করছেন। এসআইআরের তদারকিকে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না।”

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১২:১০

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারাধীন ভোটার সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়ে হতে চলেছে বৈঠক। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে সেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে যোগ দিতে পারেন রাজ্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।

গতকাল শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রসাশনিক বা নির্বাহী কর্তাদের কাছে যাওয়া যায় না। তার পরেই একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত জানায়, ওই ট্রাইব্যুনালে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং দু’-তিন জন হাই কোর্টের বিচারপতিকে রাখা যাবে। তবে কারা এই ট্রাইব্যুনালে থাকবেন তা ঠিক করতে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালত এ-ও জানায়, ভোটার তালিকায় নথি যাচাই সংক্রান্ত আবেদন এই ট্রাইব্যুনালেই করতে হবে। তবে তালিকা প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিই। তিনি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের জন‍্য নির্বাচন কমিশনকে সুপারিশ করবেন। একই সঙ্গে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নথি যাচাইয়ের কাজে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। সমস্ত প্রযুক্তিগত ত্রুটি চিহ্নিত করতে হবে কমিশনকে। প্রয়োজনে নতুন করে লগইন আইডি তৈরি করে দিতেও নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবে হাই কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের কর্তারা। কমিশন সূত্রের খবর, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ এবং ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ৬৩ লক্ষের মধ্যে ১০ লক্ষের নথি যাচাই করা হয়ে গিয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। ১০ লক্ষের নাম কী অতিরিক্ত তালিকা হিসেবে প্রকাশিত করা হবে? তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কমিশন সূত্রের এ-ও জানা গিয়েছে, আগামী কালের বৈঠকের পরেই তা চূড়ান্ত হতে পরে।

উল্লেখ্য, রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) মামলায় গতকাল রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ার তদারকিতে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। তাঁর কথায়, “বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা বর্তমানে কাজ করছেন। এসআইআরের তদারকিকে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না।” যদিও রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতকে জানান, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সততা বা ভূমিকা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না।

শুনানিতে মেনকা গুরুস্বামী জানান, এখনও প্রায় ৫৭ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে বলেন, “আমরা জানতাম, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই কাজে নিযুক্ত করলে আপনারা পালিয়ে যাবেন। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্ট আমাদের জানিয়েছে, ১০ লক্ষের নিস্পত্তি হয়েছে।” বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরও কীভাবে এই ধরনের আবেদন করা হল, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। পরে শীর্ষ আদালত রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, আদালত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও প্রচেষ্টা বরদাস্ত করবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনাদের আবেদনটি সময়ের আগেই করা হয়েছে। মনে হচ্ছে, আপনারা তা বিশ্বাসই করেন না।” তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেন, “আপনাদের কীভাবে এমন আবেদন দায়ের করার সাহস হল? কেউই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস দেখাবে না। ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি এটা কোনোও ভাবেই সহ্য করব না।”


Share