Special Intensive Rivision

৭৮টি বহুতলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র চিহ্নিত করল নির্বাচন কমিশন, প্রকাশ করা হবে তালিকা, ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে বুথের সংখ্যা কমার ইঙ্গিত

ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাতেও প্রভাব পড়বে। এক আধিকারিক বলেন, ৭৮টি বড় আবাসিক কমপ্লেক্স ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পাবে। সংশোধনের পরে ভোটার কমলে বুথ সংখ্যাও কমবে।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৩০

সামনের মাসেই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে। আর তার আগেই রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ৭৮টি বহুতলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এই আবাসনগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে রাজ্যে ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকাকে স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, এই প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা বেশ কিছুটা কমতে পারে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাতেও তার প্রভাব পড়বে। কারণ প্রতিটি বুথে এক হাজারের বেশি রাখা যাবে না। কমিশনের আধিকারিক বলেন, ৭৮টি বড় বহুতল কমপ্লেক্স ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি বুথগুলির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পাবে। সংশোধনের পরে ভোটার কমলে বুথ সংখ্যাও কমবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

কমিশনের যুক্তি, বহুতল আবাসনে বসবাসকারী অনেক ভোটার দূরে বুথ হওয়ার কারণে ভোট দিতে আগ্রহী হন না, বিশেষ করে প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি। তাঁদের মতে, আবাসনের ভেতরেই বুথ থাকলে ভোটদান অনেক সহজ হবে। এর আগে কলকাতা-সহ সাত জেলায় ৬৯টি বহুতলে বুথ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। পরে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৭৮ করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কোন জেলায় কত বুথ হবে, তা স্পষ্ট হবে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই উদ্যোগে আপত্তি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে কমিশন জানিয়েছে, যেখানে ৩০০-র বেশি নথিভুক্ত ভোটার রয়েছেন, সেখানেই কেবল এই ধরনের বুথ করা হবে। ভবানীপুর-সহ শহরের বহু এলাকায় এমন বহুতল রয়েছে। সেই মর্মে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমীক্ষা রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল কমিশন। তার পরে তাঁরা রিপোর্ট জমা দেন। তা খতিয়ে দেখেই আপাতত ৭৮টি বুথ নিশ্চিত করেছে কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্তকে বিজেপি নেতৃত্ব স্বাগত জানিয়েছে।


Share