TMC Account

তৃণমূলের টাকায় কিনে তৃণমূলকেই ভাড়া দেওয়া হয় হেলিকপ্টার এবং বিমান! দলের তিনটি অ‍্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ইডি

বেআইনি আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে তাঁরা মামলা রুজু করেছে। তৃণমূলের তিনটি বেসরকারি ব‍্যাঙ্কের অ‍্যাকাউন্ট থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ ইডির তদন্তকারীরা পেয়েছেন। বেআইনি ভাবে আদায় করা অর্থ এই অ‍্যাকাউন্টের মধ্যে ঢুকেছে বলেও ইডি দাবি করেছে।

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ১১:৪৫

তৃণমূলের টাকায় বিমান, হেলিকপ্টার কিনে তৃণমূলকেই ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। রাজ‍্য পুলিশের পরে এ বার তৃণমূলের তিনটি বেসরকারি ব‍্যাঙ্কের অ‍্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, দলীয় তহবিল থেকে একটি বিমান এবং একটি হেলিকপ্টার কেনার জন‍্য একটি সংস্থাকে কোটি কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ওই সংস্থাটি বিমান কিনে আবার তৃণমূলকেই ভাড়া দিয়েছে। এ ছাড়াও, বিদেশি টাকাও লেনদেন হয়েছে বলেও ইডি জানিয়েছে।

দলীয় কোন্দলে কারণে তৃণমূলের তহবিল থেকে লেনদেন বন্ধ করার জন‍্য কোষাধক্ষ‍্য অরূপ বিশ্বাস বেসরকারি ব‍্যাঙ্কের কাছে আবেদন জানান। পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান— সাইবার অপরাধের টাকা তৃণমূলের ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। এর পরেই ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য বেসরকারি ব‍্যাঙ্ককে পুলিশ নির্দেশ দেয়। তিনটি অ‍্যাকাউন্টে মোট ৪৪০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা রয়েছে। সেই এফআইআরের সূত্র ধরেই ইডি ইসিআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। 

মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা, হাওড়া এবং সল্টলেক-সহ মোট পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালায়। জানা গিয়েছে, ‘কেয়ারওয়েল অ‍্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার মালিকের বাড়ি, লালবাজার এবং সিজি ব্লকের দফতরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে বেশ কিছু লেনদেন সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করে ইডির আধিকারিকেরা। সেই সমস্ত নথি ইডি খতিয়ে দেখেছে।

বুধবার ইডি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূলের ব‍্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি বিমান সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। তারা আবার ওই সময়কালের মধ্যেই আরেক বিমান সংস্থাকে ৮২ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা দেয়। এই সংস্থাটি একেবারেই নতুন একটি সংস্থা বলে ইডির আধিকারিকেরা জানতে পেরেছেন। এই টাকা এমব্রেসার লেগেসি ৬০০ বিমান এবং অগস্তা ১০৯ হেলিকপ্টার কেনার জন্য সেই টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই দু’টি বিমান কেনার জন‍্য মোট ১১২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে ইডি জানিয়েছে।

ইডির আরও অভিযোগ, হেলিকপ্টার কেনার জন্য গত ২০২৩ সালে সিম‍্যান দ্বীপপুঞ্জের একটি বিমান সংস্থার কাছ থেকে ১.৭ লক্ষ আমেরিকান ডলার (ভারতীয় টাকায় প্রায় ১৬ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা) ঋণ নেওয়া হয়েছে। সেই ঋণটি একেবারেই অসুরক্ষিত ছিল। ঋণ নিতে এই কেয়ারওয়েল বিমান সংস্থাটি কোনও সম্পত্তি বন্দক রাখেনি বলেই ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে। হেলিকপ্টারটি কেনার জন‍্য ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। 

ইডি জানিয়েছ, তৃণমূলের তহবিলের টাকায় বিমান এবং হেলিকপ্টার কিনে তৃণমূলকেই ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বদলে মোটা অঙ্কের টাকা ভাড়া নেওয়াও হয়েছে। সেই টাকা এই বিমান সংস্থার অ‍্যাকাউন্টে জমা পড়েছে।

বেআইনি আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে তাঁরা মামলা রুজু করেছে। তৃণমূলের তিনটি বেসরকারি ব‍্যাঙ্কের অ‍্যাকাউন্ট থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ ইডির তদন্তকারীরা পেয়েছেন। বেআইনি ভাবে আদায় করা অর্থ এই অ‍্যাকাউন্টের মধ্যে ঢুকেছে বলেও ইডি দাবি করেছে। কে, কীভাবে টাকা লেনদেন করছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই আপাতত তিনটি অ‍্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে ইডি জানিয়েছে। 


Share