ED Raid

ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রির অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির অভিযান

এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে কলকাতার আরও কয়েকটি জায়গাতেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৬

ইউনেস্কো-র নাম ভাঁড়িয়ে দুর্গাপুজো পরিক্রমার টিকিট জালিয়াতির মামলার তদন্তে কলকাতা-সহ রাজ‍্যের ১৫টি জায়গায় চলছে তল্লাশি অভিযান। এই মামলাতেই ভিনরাজ‍্যের তল্লাশি চলছে। মোট ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়িতে ইডি পৌঁছে গিয়েছে। শুধু ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী নয়, প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মীয়ের বাড়িতেও ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে।

গত জুন মাসে বউবাজার থানায় মাঠে এক ব‍্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর সংস্থা ‘মাস আর্ট’ ইউনেস্কো-র নাম ভাঁড়িয়ে পুজো পরিক্রমার আয়োজন করে। ২০২১ সালে দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর Intangible Cultural Heritage of Humanity’ তালিকায় স্থান পায়। ২০২২ সাল থেকে এই সংস্থা কলকাতা ২৪টি পুজোর পরিক্রমার পাস ছাপায়। তাতে ইউনেস্কো-র লোগো ছিল। ইউনেস্কো-র স্বীকৃতিকে অনুমতি ছাড়া ‘মাস আর্ট’ পাসগুলিকে ছাপিয়ে চার-পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। ওই ব‍্যক্তির অভিযোগ, এ ভাবে তিনি কোটি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দায়ের হয়েছিল এফআইআর। সেই এফআইআর খারিজের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেও দ্বারস্থ হয়েছিলেন সস্ত্রীক ইন্দ্রনীল সেন। সেই এফআইআরের সূত্র ধরেই ইডি ইসিআইআর দায়ের করে মামলার তদন্ত শুরু করেছে।

তৃণমূল জমানায় রাজ্যের তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। দফতরে থাকাকালীন অনেক কীর্তির কথা শোনা গেলেও দুর্গাপুজোর পরিক্রমার টিকিট জালিয়াতি মামলায় ইডি কোমর বেঁধে নেমেছে।

কলকাতা ছাড়াও হুগলির সিঙ্গুরের ছুটিপুরে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ি ‘মোহর’ রয়েছে। মঙ্গলবার সাড়ে ৬টা নাগাদ ইডির আধিকারিকেরা সেখানে পৌঁছে গিয়েছে। এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় সাত-আট বছর আগে ফাঁকা জায়গা কিনে এই বাগানবাড়িটি তৈরি করেন তৎকালীন মন্ত্রী তথা চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন। বাগানবাড়ির নাম দেওয়া হয় ‘মোহর’।

স্থানীয় বাসিন্দা শচীন বিশ্বাস বলেন, “এর তদন্ত হওয়া উচিত। এত বড় একটা সম্পত্তি, বিল্ডিং, বাগানবাড়ি লোকজন নিয়েছে আনন্দ ফুর্তি করতেন। তাই এর তদন্ত হওয়ার দরকার আছে।”

সিঙ্গুর বিধানসভার ২ মন্ডলের বিজেপির সভাপতি উজ্জল খামারু বলেন, “এটা প্রত্যাশিতাই ছিল যে ইডি-সিবিআই একদিন আসবে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই মোহরকে কেন্দ্র করে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে বিল্ডিং নির্মাণ— সবেতেই দুর্নীতি হয়েছে।


Share