Debraj Chakraborty

পুলিশের পরে ইডির নজরে দেবরাজ, হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা

প্রাথমিক ভাবে কাগজপত্র তৈরি করে তা দিল্লিতে পাঠানো হবে। দিল্লির সবুজ সঙ্কেত মিললেই ইসিআইআর দায়ের করা হবে বলে ওই সূত্র জানাচ্ছে। তবে গোটাটাই দিল্লির ওপর নির্ভর করছে তাঁরা।

দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সী
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিধাননগর
  • শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১২:৫১

তোলাবাজি, ভয় দেখানোর অভিযোগে বিধাননগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ বার তাঁর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে আসরে নামতে পারে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রের খবর, দেবরাজের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ খতিয়ে দেখছে তারা। প্রাথমিক ভাবে কাগজপত্র তৈরি করে তা দিল্লিতে পাঠানো হবে। দিল্লির সবুজ সঙ্কেত মিললেই ইসিআইআর দায়ের করা হবে বলে ওই সূত্র জানাচ্ছে। তবে গোটাটাই দিল্লির ওপর নির্ভর করছে তাঁরা।

বুধবার বিকেলের দিকে পুরুলিয়া থেকে দেবরাজ চক্রবর্তী করে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছে। ভোরের দিকে তাঁকে বাগুইআটি থানায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে আগাম রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সী এবং দেবরাজ চক্রবর্তী। পারিবারিক স্বার্থে অদিতি জামিন পেলেও দেবরাজের জামিন খারিজ হয়ে যায়। তার পরেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেবরাজের গ্রেফতার করে।

আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিধাননগরের পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ, ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে হস্তান্তর করেছেন। পরিবারের সদস্যদের নামেও কিছু সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন। অদিতি মুন্সী রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ছিলেন। দেবরাজ নিজেও বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর এবং মেয়র পারিষদ ছিলেন। এলাকার যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। দম্পতির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি, অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

দেবরাজের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ১০ জন প্রোমোটার। তাঁদের মধ্যে এক জন হলেন কেষ্টপুরের অভিজিৎ সাহা। অভিযোগ, কেষ্টপুরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি নির্মাণকাজের সময় তাঁকে এবং তাঁর লোকজনকে বাধা দেওয়া হয়। দেবরাজের নির্দেশে মণীশ মুখোপাধ্যায় এবং সাগরেদরা এই কাজ করেছিলেন। তাঁরা ওই প্রোমোটারের কাছ থেকে মোটা টাকা দাবি করেছিলেন। বলা হয়েছিল, টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। তৃণমূল জমানায় ওই প্রোমোটার অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ওই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাতে তার বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, চাপের মুখে নতিস্বীকার করে দেবরাজকে ৩০ লক্ষ টাকা এবং তাঁর সহযোগী মণীশকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পর আরও টাকা চাওয়া হচ্ছিল। টাকা না পৌঁছোলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইডি সূত্রের খবর, এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দিল্লির সবুজ সঙ্কেত পেলেই ইসিআইআর দায়ের করে আর্থিক তছরুপের মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থা শামিল হতে পারে।


Share