Land Scam

বিদেশি পিস্তল কিনেছিলেন জয়ের সংস্থা থেকে, ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ, দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ১০০ পাতার চার্জশিট দিল ইডি

কাঁকুলিয়া রোডের অশান্তির ঘটনার ১৫ দিন আগেই জয় কামদারের কোম্পানি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল কিনেছেন। ইডির দাবি, সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেই পিস্তল বাজেয়াপ্ত করা হয়।

জমি দখল মামলাতে চার্জশিট দিল ইডি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ০৫:০৭

জমি দখল এবং তোলাবাজির মামলায় কসবার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সংস্থা বিচারভবনে ১০০ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে। তার বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি ৭৬ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০০ জনের কাছ থেকে বয়ান নেওয়া হয়েছে।

ইডির অভিযোগ, সোনা পাপ্পু জোরপূর্বক জমি দখল করতেন। মূলত প্রবীণ নাগরিকেরাই সোনা পাপ্পু নিশানা করত। জমি হাতিয়ে নিতে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস সাহায‍্য করত। সোনার ওপরে জয় কামদারের হাত ছিল। ফলে এই সিন্ডিকেট চালাতে কোনও সমস‍্যা হয়নি। বেআইনি ভাবে জমি দখল মামলায় জয় এবং শান্তনুর বিরুদ্ধে আগেই চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। জয় এবং শান্তনু মিলে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 

গত মার্চ মাসে গোলপার্কের অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হয়েছিল বলেই পুলিশ দাবি করেছিল। সেই ঘটনায় কসবার তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর নাম সামনে আসে। তার পর থেকেই পালিয়ে যায় সোনা পাপ্পু। সংবাদমাধ্যমে লাইভ করে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে চমকাতে দেখা যায়। তার পরেও তাঁকে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। 

কাঁকুলিয়া রোডের অশান্তির ঘটনার ১৫ দিন আগেই জয় কামদারের কোম্পানি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল কিনেছেন। ইডির দাবি, সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেই পিস্তল বাজেয়াপ্ত করা হয়। জমি দখল মামলাতে তাঁর নাম জড়ালে সোনা পাপ্পুকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠানো হয়। একাধিক বার নোটিশ করা হলে তিনি সেখানে যাননি। তিন মাস পালিয়ে বেরোনোর পরে অবশেষে ১৮ মে সিজিও কমপ্লেক্সে এসে হাজিরা দেন। ওই দিন রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে ইডি তাঁকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে সোনা পাপ্পু, জয় কামদার এবং শান্তনু সিংহ বিশ্বাস জেল হেফাজতে রয়েছেন।


Share