Land Encroachment of Railways

জমি জবরদখল করে গজিয়ে ওঠা বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদ করতে কি তৎপর পূর্ব রেল? রাজ‍্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ‍্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক জেনারেল ম্যানেজারের

এ নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, "সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। এই মুহুর্তে আর কিছু বলতে চাই না।"

(বাঁ দিক থেকে) রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪১

রেলের জমি জবরদখল করে গজিয়ে উঠছে বেআইনি নির্মাণ, দোকান, বাজার। শুধু তাই নয়, শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় রেলের জায়গা বস্তি গড়ে উঠেছে। ফলে বিপুল পরিমাণ রেলের সরকারি জমি বেহাত হয়ে গিয়েছে। এ বার কী সেই জমি ১০০ শতাংশ দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হতে চলেছে রেল? তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও পূর্ব রেলের দাবি, তাঁরা ‘প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে রাজ্যের দুই শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

পূর্ব রেলের সমাজমাধ‍্যমে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে জেনারেল ম‍্যানেজার গীতিকা পান্ডে রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে দেখা করেছেন। দু’পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বৈঠক বলে দাবি করা হয়েছে। রেলের দাবি, যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে এই বৈঠক হয়েছে। রেলের কাজকর্ম যাতে বিঘ্নিত না হয়, বরং স্বাভাবিক থাকে তা নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে মত বিনিময় করেন জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে।

মঙ্গলবারের এই বৈঠকের পরে বুধবার নবান্নে রাজ‍্যের মুখ‍্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন গীতিকা পান্ডে। পূর্ব রেল জানিয়েছে, মুখ‍্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ রাজ্যে রেলের পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ যাতে নির্বিঘ্নে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যেই হয়েছে। রেল ও রাজ্য সরকার— দু’পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে রেল মনে করছে। তাই দুই বৈঠক হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে জায়গা দখল করে হকারেরা বসে রয়েছেন। কিছু জায়গায় উচ্ছেদ করা হলেও এখনও বেশিরভাগ স্টেশনে রয়ে গিয়েছে। তাতে যেমন রেলের নতুন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তেমনি নিত‍্যযাত্রীদের চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে।

অন‍্য দিকে, রেলের জায়গা দখল করে পাকাপাকি বেআইনি নির্মাণ, রেলের পুকুর বুঝিয়ে নির্মাণ, বাজার, দোকান তৈরি হয়েছে। তা যে একা রেলের পক্ষে উচ্ছেদ করা সম্ভব নয় তা তাঁরা নিশ্চিত। তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের সহযোগিতায় চায় পূর্ব রেল। এই বৈঠকের পরেই কী রেলকে তাদের জমি দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হতে দেখা যাবে? তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এ নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, "সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। এই মুহুর্তে আর কিছু বলতে চাই না।"

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে বলেন, “‘প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি’ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মুখ‍্যসচিব এবং রাজ‍্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রেলের জমি দখলমুক্ত করার বিষয়টি বৃহত্তর বিষয়। এই বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।”

যদিও রাজ‍্যের জনজীবনে গতি আনতে এই প্রকল্পে কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন লাইন বসাতে বা ‘স্মল গেজ’ থেকে ‘ব্রড গেজ’-এ পরিবর্তন করতে জমির প্রয়োজন। যদি সংশ্লিষ্ট জমিতে জবরদখল থাকে সে ক্ষেত্রেও তা মুক্ত করার প্রয়োজন। তা হলে সেই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।


Share