Kolkata Municipal Corporation

তারাতলা দুর্ঘটনার পর কলকাতায় ওয়ার্ডভিত্তিক নির্মীয়মাণ ভবনের তালিকা তৈরির নির্দেশ, ছ’তলার বেশি ভবনে অগ্রাধিকার দিয়ে শুরু হচ্ছে নিরাপত্তা অডিট

নির্মীয়মাণ ভবনগুলির নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতি শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। সেই লক্ষ্যে বিল্ডিং বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন ওয়ার্ডে কতগুলি নির্মীয়মাণ ভবন রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে।

কলকাতা পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১০:১৯

তারাতলার দুর্ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নির্মাণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতা-সহ ১৩টি পুরসভা এলাকায় আপাতত সব ধরনের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্মীয়মাণ ভবনগুলির নিরাপত্তা অডিট শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষ। পুরসভা সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহ থেকেই এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

নির্মীয়মাণ ভবনগুলির নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতি শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। সেই লক্ষ্যে বিল্ডিং বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন ওয়ার্ডে কতগুলি নির্মীয়মাণ ভবন রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে। প্রশাসনের মতে, এই তালিকা প্রস্তুত হলে পরবর্তী পর্যায়ে অডিটের কাজ আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে বাণিজ্যিক নির্মাণ এবং আবাসিক বহুতলের ক্ষেত্রে ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবনগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা এলাকায় নির্মীয়মাণ ভবন পরিদর্শনের জন্য বরোভিত্তিক যৌথ টিম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দলে থাকবেন কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি পূর্ত দফতর, কেএমডিএ, সিইএসসি, পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রতিনিধিরা।

তবে যৌথ টিম গঠনের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তাই অডিট শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে কলকাতা পুরসভা। সম্প্রতি বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নির্মীয়মাণ ভবনগুলির তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, সোমবার কলকাতা পুরসভা নির্মাতাদের জন্য একটি বিশেষ তথ্যপত্র প্রকাশ করেছে। ওই ফর্মে নির্মাণকাজের ধরন, অনুমোদনের অবস্থা, প্রযুক্তিগত বিবরণ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাধিক প্রশ্নের মাধ্যমে প্রকল্প-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পুরসভা সেগুলি নিজেদের নথির সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য অসঙ্গতি বা গরমিল চিহ্নিত করতে চায়।

পুরসভা সূত্রের খবর, শুধু ডেভেলপারদের কাছ থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে না। নির্মাণকারী সংস্থা, লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিল্ডিং সার্ভেয়ার, আর্কিটেক্ট এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ করছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট বিল্ডিংয়ের অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য তাঁদের অনুরোধ করা হয়েছে। পরে সেই নথিগুলি পুরসভার সংরক্ষিত রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে যৌথ পরিদর্শন শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি ভবন সম্পর্কে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হয়।

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, নির্মাণ নিরাপত্তার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনেই পুরসভার আধিকারিকরা দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তাঁর কথায়, বর্তমানে নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় প্রশাসনিক দায়িত্বও অনেকটাই বেড়েছে। প্রশাসনের আশা, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে শহরের নির্মাণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নির্মাণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিতভাবে নজরদারির আওতায় রাখা হবে।


Share