Swarup Biswas

রহস্যে ঘেরা ‘সিক্রেট রুম’, খুলছে না ডিজিটাল লক, অরূপ বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে নতুন ধাঁধার মুখে পুলিশ

সোমবার ধৃত স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছোয় তদন্তকারী দল। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ওই ডিজিটাল লকের কোড জানাতে পারেননি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

স্বরূপ বিশ্বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ০৭:৫৯

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের সাহাপুর কলোনির ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে একটি রহস্যঘরের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ঘরটির দরজায় ডিজিটাল লক থাকায় তা এখনও খোলা সম্ভব হয়নি। সোমবার ধৃত স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছোয় তদন্তকারী দল। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ওই ডিজিটাল লকের কোড জানাতে পারেননি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘরটি খোলার জন্য বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হয় এবং লক ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টার পরেও দরজা খোলা সম্ভব হয়নি। ফলে ওই ঘরের ভিতরে কী রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ঘরটি খুলতে পারলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

মেসি-কাণ্ডে ক্রমশ ঘনাচ্ছে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিপদ। কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচ না পাওয়ার পরও তিনি এখনও থানায় হাজিরা দেননি। ফলে তাঁর খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এ দিকে যৌন নির্যাতন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস।

সোমবার স্বরূপকে সঙ্গে নিয়ে বেহালার সাহাপুর কলোনিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে একটি রহস্যময় ঘরের সন্ধান মেলে। ঘরটিতে ডিজিটাল লক থাকায় তা খোলা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা স্বরূপের কাছে লকের কোড জানতে চাইলেও তিনি তা বলতে পারেননি। চাবিওয়ালা এনে চেষ্টা করা হলেও ডিজিটাল লক খোলা যায়নি। ফলে অন্য উপায়ে ঘরটি খোলার পরিকল্পনা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই ঘরে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্যপ্রমাণ লুকিয়ে থাকতে পারে।

একসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে তিনি বিদ্যুৎ, ক্রীড়া-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন। অভিযোগ, সেই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে স্বরূপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন নানা বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, আর্থিক প্রতারণা, প্রভাব খাটানো, জমি দখল এবং সুরুচি সংঘকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ক্লাবঘরের দ্বিতীয় তলায় বিলাসবহুল হোটেলের আড়ালে বেআইনি কার্যকলাপ চলত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া টলিউডে প্রভাব বিস্তার ও একাধিপত্য কায়েমের অভিযোগও রয়েছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও অস্ত্র আইনে মামলাও দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি পুলিশের হেফাজতে। আর মেসি-কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে চাপ। এরই মধ্যে তাঁদের বাড়িতে রহস্যঘরের সন্ধান মেলায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।


Share