Cyber Crime

সিবিআই সেজে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’, কলকাতার দম্পতির কাছ থেকে ৩ কোটি হাতিয়ে নেওয়া অভিযুক্ত জেল থেকেই গ্রেফতার

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্য একটি মামলায় ইকো পার্ক থানার তদন্তে ধৃত হয়ে দমদমের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিল আবির। সম্প্রতি সাইবার প্রতারণার মামলার তদন্তে তার নাম সামনে আসতেই জেল থেকে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৩:০২

সিবিআই অফিসারের পরিচয় দিয়ে ফোন, তারপর ভয় দেখিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। সেই ফাঁদেই পড়ে কলকাতার এক দম্পতির কাছ থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকচক্র। অবশেষে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত আবির শেখকে জেল থেকেই গ্রেফতার করল লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্য একটি মামলায় ইকো পার্ক থানার তদন্তে ধৃত হয়ে দমদমের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিল আবির। সম্প্রতি সাইবার প্রতারণার মামলার তদন্তে তার নাম সামনে আসতেই জেল থেকে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় বছরখানেক আগে। কলকাতার ওই দম্পতির কাছে একটি পার্সেল সংক্রান্ত ফোন আসে। প্রতারকেরা জানায়, তাঁদের নামে ডাক বিভাগের কাছে একটি পার্সেল এসেছে, যার ভিতরে মাদকদ্রব্য মিলেছে। এরপরই দম্পতিকে মাদক পাচারের অভিযোগে জড়ানোর ভয় দেখাতে শুরু করে তারা। নিজেদের সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে আইনি জটিলতা থেকে বাঁচাতে জরিমানা দেওয়ার কথা বলে। এই ভয় দেখিয়েই ধাপে ধাপে ওই দম্পতির কাছ থেকে মোট তিন কোটি টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।

এর আগেই এই মামলায় ওডিশার কটক থেকে লালবাজারের সাইবার থানার পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তে জানা যায়, ধৃতদের একজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় তিন কোটি টাকা এবং অন্যজনের অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের থেকেই আবির শেখের নাম সামনে আসে।

পুলিশের দাবি, আবির আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকত এবং ‘সিম বক্স’ পদ্ধতিতে বেআইনি ভাবে ভুয়ো টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালাত। সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহককে ফোন করে প্রতারণা চালানো হত বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তল্লাশিতে একাধিক সিম বক্স ও বিপুল সংখ্যক সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এই প্রতারণা চক্রে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।


Share