Nabanna

দু’মাসে সাত হাজার পেরিয়ে ডেঙ্গি আক্রান্ত, পুজোর মুখে বাড়ল উদ্বেগ! ‘হাই-রিস্ক’ অক্টোবর-নভেম্বর, নজরদারিতে নবান্ন

স্বাস্থ্য দফতরের হিসাবে, অক্টোবর ও নভেম্বরকে ডেঙ্গির ‘হাই-রিস্ক পিরিয়ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই পুজোর আগেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় জেলাগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিল নবান্ন।

নবান্ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৭

দুর্গাপুজোর আর বেশি দেরি নেই। উৎসবের প্রস্তুতির মধ্যেই রাজ্যে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগামী দু’মাসকে কোনও ভাবেই হালকা ভাবে নিতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। স্বাস্থ্য দফতরের হিসাবে, অক্টোবর ও নভেম্বরকে ডেঙ্গির ‘হাই-রিস্ক পিরিয়ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই পুজোর আগেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় জেলাগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিল নবান্ন।

সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। বৈঠকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় কোনও স্তরে গাফিলতি বা ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দু’সপ্তাহে রাজ্যে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের নিরিখে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেই পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে বেশি উদ্বেগজনক। তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এরপর রয়েছে কলকাতা, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা।

ডেঙ্গির সামগ্রিক ছবিতেও সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। গত ৬ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল দু'হাজার ৪১০। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে, ১০ সেপ্টেম্বর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চার হাজার ৬৭৯। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে হয়েছে সাত হাজার ৩২০। অর্থাৎ, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানেই আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

দৈনিক সংক্রমণের পাশাপাশি হাসপাতালগুলিতেও বাড়ছে চাপ। ১১ সেপ্টেম্বর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৪৯ জন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২১৬ জন। ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ২১৩, হাসপাতালে ভর্তি হন ২৮১ জন। গত শনিবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৩ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৭১ জন। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক ডাকে নবান্ন। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে বৈঠকে ১৬টি দফতরের সচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার। বিধাননগর, আসানসোল ও শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনারদেরও বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নবান্নের নির্দেশ, শুধুমাত্র ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সংগ্রহ করলেই হবে না। জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। স্বাস্থ্য, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত-সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোথাও যাতে জল জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, লার্ভা ধ্বংস এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। বর্ষা বিদায়ের পর ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধির অতীত অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই অক্টোবর-নভেম্বরের মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন।


Share