Supreme Court

‘গণতান্ত্রিক ব‍্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে,’ আইপ‍্যাক মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘটনা প্রসঙ্গে টেনে শীর্ষ আদালতে দাবি তুষার মেহতার

এর পর বৃহস্পতিবার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তুলে ধরেন কীভাবে ইডির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তাঁর দাবি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন অভিযুক্তকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৫

আইপ্যাক মামলাকে কেন্দ্র করে বুধবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র। তাঁর মন্তব্য, কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

এর পর বৃহস্পতিবার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তুলে ধরেন কীভাবে ইডির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তাঁর দাবি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন অভিযুক্তকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত, আইপ্যাক অফিসে ইডির তল্লাশি চলাকালীন সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাতে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় রাজ্যের তরফে ইডির এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে তুষার মেহতা দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। কেউ এই বক্তব্য পছন্দ করতে পারেন বা নাও করতে পারেন, কিন্তু এটাই আমার আইনি সওয়াল। 'রুল অফ ল' আর্টিক্যাল ১৪-র অধীনে থাকে, যা মৌলিক অধিকার হিসেবে পরিচিত। কীভাবে সেই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, সেটাই আমি দেখাবো এবং কেন এই আবেদন আইনিভাবে বৈধ তা প্রমাণ করব।”

ইডি অফিসাররাও এই দেশের নাগরিক বলে উল্লেখ করে তুষার মেহতা বলেন, “তাঁরা তাদের অফিশিয়াল দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্তে কী উঠে এসেছে, তারা তা কোর্টের সামনে রাখছে এবং কোর্টের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক এবং তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা হোক।” তাঁর অভিযোগ, “বেআইনি কয়লা পাচারের টাকা আন্তর্দেশীয় হাওয়ালা মারফত গোয়ায় গিয়েছে। সেখানে তা নগদে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এরপর সেই টাকা গিয়েছে আইপ্যাকে।”

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তুষার মেহতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এমন কিছু ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে গিয়েছেন, যা তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হলফনামায় স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, ইডি অফিসারদের তরফে তদন্তে হস্তক্ষেপ না করার বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও তারা জোর করে তদন্তস্থলে ঢোকেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এবং ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে চলে যান।” তিনি বলেন, “এরপর অফিসারদের বিরুদ্ধে এই এফআইআর করা হয়। সেই এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করেই আমরা কোর্টে এসেছি। আমরা নিরপেক্ষ এজেন্সির মারফত তদন্ত চাইছি।”

হাই কোর্টে মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তুষার মেহতা জানান, শুনানি শুরুর আগেই শাসক দলের তরফে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে লোক জড়ো করে আদালত কক্ষে অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল। যদিও বিচারপতি পি কে মিশ্র জানতে চান, এই ঘটনার সঙ্গে মামলার বৈধতার সম্পর্ক কী।

জবাবে তুষার মেহতা বলেন, হাই কোর্টে সুষ্ঠু শুনানির পরিবেশ ছিল না বলেই সুপ্রিম কোর্টে আসা হয়েছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর তদন্তস্থলে প্রবেশ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতা।

কলকাতা প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী কী ঘটিয়েছিলেন, তার বর্ণনা দেন তুষার মেহতা। সিবিআই-এর রিজিওনাল অফিসে মুখ্যমন্ত্রী ঢুকে যাওয়া এবং সিবিআই অফিসে পাথর ছোড়ার ঘটনার উল্লেখ করেন। সিবিআই জয়েন্ট ডিরেক্টরের বাড়িতে কীভাবে হামলা হয়েছিল, তা তুলে ধরেন। বলেন, “সেই পুলিশ কমিশনার পরে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন।”

আরও বলেন, “কোর্টের অর্ডারে একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী ৫০০০ লোক নিয়ে কোর্টরুমে ঢুকে যান। জজ যাতে নিরপেক্ষভাবে নির্দেশ দিতে না পারেন, তার জন্য পরোক্ষভাবে চাপ তৈরি করেন।”

গত জানুয়ারি মাসে আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির পর এই মামলার সূত্রপাত হয়। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে এর শুনানি চলছে, যেখানে বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও তুষার মেহতা তাঁর সওয়াল পেশ করেন।


Share