Prasanta Barman

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য, চার্জশিটে নাম নেই, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে ‘পলাতক’ প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মণ

তবে এই অবস্থান নিয়ে আইনজীবী শীর্ষেন্দু সিংহ রায় প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে চার্জশিট দেওয়া মানেই তদন্ত কার্যত শেষ।

প্রশান্ত বর্মন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৩

সল্টলেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণের। এরপর শীর্ষ আদালত তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানেন নি প্রশান্ত বর্মন। অপরদিকে, এই খুনের ঘটনায় ৯০ দিনের মধ্যে পুলিশের তরফ থেকে চার্জশিট জমা দিয়েছে। সেই চার্জশিটে তাঁর নাম উল্লেখ নেই। চার্জশিটে একাধিক বার তাঁকে ‘পলাতক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছর ২৮ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। সেই মামলাতেই পুলিশের তরফ থেকে বিধাননগর আদালতে চার্জশিট জমা করা হয়েছে। চার্জশিটে তুফান থাপা, রাজু ঢালি, সজল সরকার, গোবিন্দ সরকার এবং বিবেকানন্দ সরকারের নাম আছে।  তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সমেত একাধিক ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে প্রশান্ত বর্মণের নাম যোগ করা যেতে পারে।

তবে এই অবস্থান নিয়ে আইনজীবী শীর্ষেন্দু সিংহ রায় প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে চার্জশিট দেওয়া মানেই তদন্ত কার্যত শেষ। তাঁর অভিযোগ, প্রভাবশালী ওই বিডিওকে সুবিধা দিতেই পুলিশ এমন করছে। একই দাবি করেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষও। তাঁর কথায়, মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

স্বপন কামিল্যার মৃতদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের তরফ থেকে প্রশান্ত বর্মনকে অভিযুক্ত বলে দাবি করা হয়। এই অভিযোগ ওঠার পরেই তাকে বিডিও-এর পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছিল। ওই খুনের ঘটনায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে প্রশান্ত বর্মন আগাম জামিন পেয়েছিলেন। সেই আগাম জামিনের বিরোধীতা করে বিধাননগর থানার পুলিশ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। হাই কোর্ট আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। সেটি না করায় বিধাননগর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই অবস্থাতেই প্রশান্ত বর্মণ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল।  

আত্মসমর্পণের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রশান্ত বর্মন তা করেননি। তাঁকে পুলিশ খুঁজেও পায়নি। এই সবের মধ্যেই দত্তাবাদের ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ তাঁকে ‘পলাতক’ বলে উল্লেখ করে চার্জশিট জমা দিয়েছে।

অন্য দিকে, গা-ঢাকা দেওয়া অবস্থাতেই প্রশান্ত বর্মণ দাবি করেছিলেন, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।


Share