ED Raid

সাইবারের টাকা হাওয়ালার মাধ‍্যমে বিদেশে পাচার, কামালগাজির চাল ব‍্যবসায়ীর বাড়িতে চলছে ইডির তল্লাশি

ইডি সূত্রের খবর, কামালগাজিতে শ‍্যামল ব‍্যাপারী নামে এক চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির আধিকারিকেরা পৌঁছে যান। তিনি অনেক দিন ধরেই চালের ব‍্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১২:০০

আবার কলকাতা ইডির তল্লাশি অভিযান। বুধবার সকাল থেকে কামালগাজির এক চালের ব‍্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চলছে। শুধু কামালগাজি নয়, কলকাতা, লেকটাউন-সহ মোট চার জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা এলাকা ঘিরে রেখেছে।

ইডি সূত্রের খবর, কামালগাজিতে শ‍্যামল ব‍্যাপারী নামে এক চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির আধিকারিকেরা পৌঁছে যান। তিনি অনেক দিন ধরেই চালের ব‍্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর লেকটাউন, কামালগাজির অফিস এবং বাড়িতে একযোগে তল্লাশি চলছে।

ইডি সূত্রের খবর, অসমের গুয়াহাটির একটি মামলার তদন্তে ইডি তল্লাশিতে নেমেছে। সংঘটিত সাইবার প্রতারণার টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে কামালগাজির এই চাল ব‍্যবসায়ীর নাম তদন্তে উঠে এসেছে। চালের ব‍্যবসার আড়ালে টাকা বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে ঘুর পথে সাদা করা হয়েছে। সেই টাকা হাওয়ালার মাধ‍্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সেই টাকা আন্তঃরাজ‍্য হাওয়ালা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা মনে করছেন।

গুয়াহাটিতে এই চাল ব‍্যবসায়ীর কি কার্যকলাপ রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইডির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তাবে সংঘটিত সাইবার অপরাধের টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে পাচার চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক তথ‍্য তদন্তকারীরা শ‍্যামলের কাছ থেকে পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধের একটা নেটওয়ার্ক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সক্রিয় রয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ব‍্যপক ধড়পাকড় হয়েছে। সেই সমস্ত মামলার ভিত্তিতে গুয়াহাটিতে ইডি একটি ইসিআইআর দায়ের করে। টাকা গতিপথ, কী ভাবে কার কাছে অপরাধের টাকা পৌঁছে গিয়েছে তা জানতে চায় ইডি।

উল্লেখ্য, মাদকপাচার থেকে অর্জিত অর্থের লেনদেন লুকিয়ে রাখতে পণ‍্য পরিবহণকে কাজে লাগানো হত বলে ইডি দাবি করেছিল। মিজোরামের মাদক পাচার মামলায় বেআইনি অর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তদন্তে নেমে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ইডি। আদালতের নির্দেশে তাঁদের আইজলের সেন্ট্রাল জেল থেকে হেফাজতে নিয়েছে। ইডির বক্তব্য, তদন্ত নেমে মাদক পাচারের টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। পাচার থেকে অর্জিত ১৭৫ কোটি টাকা ব‍্যাঙ্কিং ব‍্যবস্থায় ঢোকানো হয়েছে। ৯৯১ টি এমন অ‍্যাকাউন্টের তাঁরা হদিশ মিলেছে। তা ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে বলে ইডি জানিয়েছে।ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, মাদক পাচার থেকে অর্জিত অর্থ শুধু নগদে লেনদেন করা হত এমনটা নয়, অর্থের লেনদেনের স্তর গোপন রাখতে সাধারণ পণ্য পরিবহণকে পাচারকারীরা বেছে নিয়েছে। পণ‍্যের মাধ্যমে সেই অর্থের নিষ্পত্তি করা হত।


Share