Corona Virus

ফের কি ফিরছে করোনার ছায়া! গড়িয়ার নাবালক কোভিড পজিটিভ, অন্ধ্রপ্রদেশে জোড়া মৃত্যুতে কড়া সতর্কতা স্বাস্থ্য দফতরের

অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার পর রিপোর্টে নিশ্চিত হয়, সে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:৪৩

রাজ্যে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা সংক্রমণ। এ বার গড়িয়ার ১০ বছরের এক নাবালকের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল ওই নাবালক। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার পর রিপোর্টে নিশ্চিত হয়, সে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত।

শনিবার সকালেই জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে এক নাবালককে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে সাধারণ সংক্রমণ বলেই মনে করা হলেও চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁর সোয়াব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপরই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউ-তে চিকিৎসা শুরু করা হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, নাবালকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে উদ্বেগজনক। সংক্রমণের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে তাঁর মাকেও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ জানান, কয়েক দিন ধরে শিশুটি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছিল। চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ভাইরাল পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে করা হলে এক্স-রেতে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। একই সঙ্গে ভাইরাল পরীক্ষার রিপোর্টে নিশ্চিত হয়, শিশুটি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। সংক্রমণ ধরা পড়ার পরই তাকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়।

চিকিৎসকের মতে, বর্ষাকালে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গ দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই করোনা সংক্রমণ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ভিড় এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অন্ধ্রপ্রদেশে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ। রাজ্যে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও আট জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বিশেষ করে কাডাপা জেলায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্ক হয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় করোনা পরীক্ষা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, কাডাপার রাজাম্পেট এলাকার এক ব্যক্তি কয়েক দিন ধরে জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন। করোনা পরীক্ষা করানোর পর তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্য দিকে, কাডাপায় পৃথক এক ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সি এক ব্যক্তি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে স্থানীয় সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসার সময় তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে হাসপাতালের কোভিড আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরপর দু'জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারি ও সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে।


Share