Suvendu Adhikari

‘সব কাগজ আমার কাছে আছে,’ বাংলা আবাস যোজনায় কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছ, ফলতার সভা থেকে জাহাঙ্গিরকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

তাঁর অভিযোগ, কয়েক হাজার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা জাহাঙ্গিরের দলবল লুট করে নিয়েছে। এমনকী, ঘূর্ণিঝড় আমফানের পরে প্রধানমন্ত্রী বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলে টাকাও কার্যত তাঁরা লুঠ করে নিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ০৭:২৭

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ১০০ দিনের কাজের পরে বাংলা আবাস যোজনাতেও দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, কয়েক হাজার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা জাহাঙ্গিরের দলবল লুট করে নিয়েছে। এমনকী, ঘূর্ণিঝড় আমফানের পরে প্রধানমন্ত্রী বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলে টাকাও কার্যত তাঁরা লুঠ করে নিয়েছে। যে বিডিও আধিকারিক তাঁকে এই কাজ করতে সাহায্য করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার সকালে ফলতায় জনকল্যাণ শিবির কেমন চলছে তা পর্যবেক্ষণ করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনাপ ফলতায় যান। সেখানে একটি সভাতে বক্তব‍্য রাখার সময় তিনি এই অভিযোগ করেছেন। ঘূর্ণিঝড় আমফানের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে এক হাজার কোটি টাকা রাজ‍্যের জন‍্য বরাদ্দ করেছিলেন। মুখ‍্যমন্ত্রীর কথায়, ফলতায় অনেক দুর্নীতি হয়েছে। সেই আমফানের টাকা এই জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০ হাজার মানুষের টাকা লুট হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, প্রায় ৪০ কোটি টাকা এই তহবিলের টাকা নয়ছয় করেছে বিগত সরকার।

তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত সরকার প্রধানমন্ত্রী আওয়াস যোজনার পাল্টা বাংলা বাড়ি প্রকল্প শুরু করেছিল। পরে তহবিলের অভাবে থমকে যায়। সেই প্রকল্প অনুযায়ী, কাঁচা বাড়ি পাকা করার জন্য প্রান্তিক মানুষকে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হত। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিগত সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরে উপভোক্তাদের কাছ থেকে আট হাজার বাড়ির টাকা তুলে নিয়ে চলে গিয়েছে ‍’জাহাঙ্গিরের বাহিনীর’। অতএব মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পের প্রায় ৮৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কে তুলে নিয়ে চলে গিয়েছে তা আপনারা তাঁকে জানেন।” এই কাটমানি জোগাড় করে দেওয়ার কাজে ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সীকে নাম না করে নিশানা করেছেন। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যিনি এই ব্লকের বিডিও ছিলেন তিনি সহায়তা করেছিলেন।” বিডিওর বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার তা-ও জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ‍্য সরকারের ভিডিলেন্স এই অভিযোগ খতিয়ে দেখবে বলেও জানান তিনি।

এ দিনের জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে কিছু কাগজপত্র তাঁর হাতে এসেছে। তাতে দুর্নীতির হয়েছে বলে প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন, যাঁরা যাঁরা এই টাকা নিয়েছেন, তাঁদের কাছে সশরীরে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। লুট হয়ে যাওয়া টাকা ফেরত আনার কাজ করতে হবে জেলাশাসককে। গোটা প্রক্রিয়াটিতে তিনি নজরদারি করবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


Share