Health Scam

করোনাকালে বরাদ্দ হওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি গায়েব! কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের

স্বাস্থ্য দফতরের তালিকা অনুযায়ী, ১২টি জেলার মোট ৬৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। তার মধ্যে ৫০টি উপস্বাস্থ‍্যকেন্দ্র, ১৩টি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

চুরি নিয়ে মামলা দায়ের করতে নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দফতর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৬

করোনা মোকাবিলায় গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন‍্য কোটি কোটি বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকা খরচ করে পাঠানো হয়েছিল চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি। সেই সমস্ত যন্ত্রপাতি এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় সেই সমস্ত যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। চুরির ঘটনা সামনে আসতে কয়েকটি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দফতর।

স্বাস্থ্য দফতরের তালিকা অনুযায়ী, ১২টি জেলার মোট ৬৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। তার মধ্যে ৫০টি উপস্বাস্থ‍্যকেন্দ্র, ১৩টি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চুরির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হাওড়া জেলা। ওই জেলায় ২৫টি এমন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সাঁকরাইল ব্লকে অবস্থিত। বাকি সাতটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র শ‍্যামপুর-২ ব্লকে অবস্থিত। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে— দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। দুই জেলাতেই সাতটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চুরি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা সাতটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ক‍্যানিং-২ ব্লকে রয়েছে তিনটি। ক‍্যানিং-১ ব্লকে রয়েছে একটি, জয়নগর-২ ব্লকে রয়েছে দুটি, ভাঙড়-২ ব্লকে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

কোভিডের মোকাবিলায় গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে মজবুত করার জন্য ২০২১-২২ সালে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন এই সকল সামগ্রী কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছিল। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পে এই অর্থ মঞ্জ‌ুর করা হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা যন্ত্রপাতি সঠিক ভাবে দেখভালের জন্য ২০২৪ সালে সব জেলার জেলাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একটি চিঠিও দিয়েছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের তৎকালীন অধিকর্তা। সেগুলির যাতে যথাযথ ব্যবহার করা হয়, সে কথাও চিঠিতে লেখা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য দফতরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, “সাধারণ মানুষ যাতে উপকৃত হন, সেই জন্য কোভিডের সময় এ ধরনের সামগ্রী কিনে পাঠানো হয়েছিল। সেই সকল যন্ত্রপাতি চুরি যাওয়ার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। যাঁদের হেফাজতে এই যন্ত্রপাতি ছিল তাঁদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। গাফিলতি প্রমাণে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দফতর যে পিছপা হবে না, নির্দেশিকায় তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দায়ী ব্যক্তিদের বেতন থেকে টাকা কেটেও ক্ষতিপূরণ উসুল করা হবে।”


Share