Accident

রামধনু রঙের রাস্তা নিয়ে বিতর্ক, চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে বসানো হল ক্যাটস আই, ঘষে খসখসে করা হচ্ছে গড়িয়াহাট সেতু

অন্য দিকে, গড়িয়াহাট সেতুতে রামধনু রঙের উপরিতল ঘষে খসখসে করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, রাস্তার রং তুলে ফেলা নয়, বরং ঘর্ষণ বাড়িয়ে যানবাহনের পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা কমাতেই এই ব্যবস্থা।

(বাঁ দিকে) চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে ‘স্পিড ব্রেকার ক্যাট আই’। গড়িয়াহাট সেতুতে ঘষাঘষি (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৫৩

দুর্গাপুজোর আগে শহর সাজাতে রাস্তা জুড়ে রামধনু রঙের ব্যবহার ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করল প্রশাসন। বৃষ্টির মধ্যে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে একাধিক বাইক পিছলে পড়ার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে বসানো হল ‘স্পিড ব্রেকার ক্যাটস আই’। অন্য দিকে, গড়িয়াহাট সেতুতে রামধনু রঙের উপরিতল ঘষে খসখসে করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, রাস্তার রং তুলে ফেলা নয়, বরং ঘর্ষণ বাড়িয়ে যানবাহনের পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা কমাতেই এই ব্যবস্থা।

দুর্গাপুজোর আগে সৌন্দর্যায়নের জন্য কলকাতার একাধিক রাস্তা রামধনু রঙে সাজানো হয়েছে। কোথাও আবার আঁকা হয়েছে আলপনা। এরই মধ্যে বুধবার সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের একটি ভিডিয়ো। তাতে দেখা যায়, বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তায় পর পর কয়েকটি বাইক পিছলে পড়ছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি এখন কলকাতা ডট কম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রঙিন রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, রাস্তা রাঙানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে, এমন কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও দাবি করেছিলেন, রাস্তা রাঙাতে ‘অ্যান্টি-স্কিড’ রং ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রঙের কারণে কারও কারও চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তাঁর কানে এসেছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।

সেই আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার সকালেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে দেখা যায় নতুন ব্যবস্থা। পাঁচ রঙে রাঙানো রাস্তার দৈর্ঘ্য বরাবর প্রতি ১০ মিটার অন্তর সারি সারি ‘স্পিড ব্রেকার ক্যাটস আই’ বসানো হয়েছে। গাড়ি ও বাইকের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ। প্রশাসন সূত্রে খবর, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার সকালে গড়িয়াহাট সেতুতে রামধনু রঙের উপর যন্ত্র দিয়ে ঘষাঘষির একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ভিডিয়োয় দেখা যায়, একটি ‘মেকানিক্যাল সুইপার’-এর নীচে থাকা যন্ত্র দিয়ে রাস্তার উপরিতল ঘষা হচ্ছে। কুণালের দাবি, চিংড়িঘাটার দুর্ঘটনার পর গড়িয়াহাট সেতুর রং তোলার কাজ চলছে। যদিও পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে দাবি, রং তুলে ফেলা হচ্ছে না। বরং রাস্তার উপরিতল খসখসে করে ঘর্ষণ বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার অগ্নিমিত্রা বলেন, “গতকাল যে দু’টি মোটর সাইকেল স্কিড করে যেতে দেখলাম— সেটা কী কারণে হয়েছে, তা আমরা বলতে পারছি না। স্কিড তো অনেক কারণেই হতে পারে।” তাঁর বক্তব্য, রঙের কারণেই বাইক পিছলে গিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর কারণ নেই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ার, দমকলের ডিজি, কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তার পরেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে ক্যাটস আই বসানো এবং গড়িয়াহাট সেতুর উপরিতল ঘষে খসখসে করার সিদ্ধান্ত হয়।

শুধু কলকাতাতেই নয়, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলেও রামধনু রঙের রাস্তা নিয়ে পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। শহিদ ভগৎ সিংহ মোড়ের কাছে রাস্তা রাঙানো হয়েছিল। বুধবার রাত থেকেই সেখানে রঙিন রাস্তার উপর ঘষাঘষি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, সেই প্রক্রিয়ায় রামধনু রঙের বেশির ভাগ অংশই মুছে গিয়েছে। ফলে শহর সাজানোর উদ্যোগের পাশাপাশি রঙিন রাস্তার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।


Share