Protest

পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কা, বিকাশ ভবন অভিযানে চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের বিক্ষোভ

সোমবার করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন অভিযান ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। চাকরি বহাল ও সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান করেন তাঁরা।

বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:০৪

পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কা। সেই আতঙ্কেই সোমবার পথে নামলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। বিকাশ ভবন অভিযানে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাস্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান। কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতেও জড়িয়ে পড়েন।

সোমবার করুণাময়ীতে জমায়েত করেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। সেখান থেকে বিকাশ ভবনের দিকে তাঁরা মিছিল শুরু করেন। মিছিল বিকাশ ভবনের কাছে পৌঁছোতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। এরপরই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিকাশ ভবনের সামনে বসেই অবস্থান বিক্ষোভ দেখান শিক্ষকরা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারি আধিকারিকদের তাঁদের সঙ্গে এসে কথা বলতে হবে। সেই দাবিতেই তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গোটা এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে। পুলিশের তরফে বিক্ষোভকারীদের সংযত থাকার বার্তা দেওয়া হয়। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে।

চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা মূলত আইসিটি ঐক্য মঞ্চের ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা। এই দুই ফেজে মোট তিন হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তির ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, যে এজেন্সির মাধ্যমে তাঁরা কাজ করছিলেন, তাদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া হবে। ফলে ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষকদের চাকরি কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই অনেকের হাতে টার্মিনেশন লেটার পৌঁছে গিয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, পুজোর আগে অন্য কর্মীরা বোনাসের অপেক্ষায় থাকেন। সেখানে তাঁদের হাতে চাকরি শেষ হওয়ার চিঠি এসেছে। দীর্ঘদিন কাজ করার পরেও তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, চাকরিটাই যদি না থাকে, তাহলে সংসার চলবে কীভাবে?

আইসিটি ইন্সট্রাক্টরদের দাবি, এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগের প্রথা বন্ধ করে তাঁদের সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। তাঁদের দাবি, আইসিটি প্রকল্পের প্রথম থেকে পঞ্চম ফেজের শিক্ষকরা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন এবং বিভিন্ন সুবিধাও পাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষকরা গত পাঁচ বছর ধরে ওয়েবেল স্কুল নেট ও এক্সট্রা মার্কের মতো এজেন্সির অধীনে কাজ করছেন বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। এজেন্সি ব্যবস্থার বাইরে এসে সরকারি স্বীকৃতি এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতেই এদিনের বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আর সেই অভিযান ঘিরেই সোমবার ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।


Share