Jadavpur Student Clash

যাদবপুরে অশান্তির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের, এসএফআই এবং এবিভিপির মিছিল আটকাল পুলিশ, অশান্তির আশঙ্কায় মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী

বুধবার সন্ধ্যায় একটি গভর্নিং বডির বৈঠক ডাকে এসএফআই, ডিএসও, আইসা, পিএসএসএফ, আরএসএফ-সহ একাধিক কমিউনিস্ট সংগঠন। সেই সময় এবিভিপির সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হয়। প্ররোচনা এবং পাল্টা প্ররোচনায় দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। সেই সঙ্গে চলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। এর পরেই আচমকা হাতাহাতি শুরু হয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০১:৫৫

বুধবার রাতের যাদবপুরে ভাঙচুর, মারধরের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হল। মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লালবাজার। প্রতিবাদে এবিভিপি এবং এসএফআই দু’পক্ষ প্রতিবাদ কর্মসূচি ডাক দিয়েছে। এবিভিপির মিছিল শুরু হলেও এসএফআইকে মিছিল করার অনুমতি পাওয়া যায়নি। অশান্তির আশঙ্কায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল রাতে জিবি বৈঠককে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে বিজেপি এবং এবিভিপি সমর্থকরা তান্ডব চালিয়েছে। আগুন লাগানো হয়েছে। কয়েক জন এবিভিপির সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

লালবাজার জানিয়েছে, ঘটনায় যাদবপুর থানার ওসি উপাচার্য চিরঞ্জিব ভট্টাচার্য-সহ অন‍্যান‍্য আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ফোন করা হলে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে লালবাজার কন্ট্রোলের ১০০ ডায়ালে অশান্তি খবর আসে। পুলিশ পাঠানো হলেও পুলিশ ভিতরে ঢুকতে পারেনি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য পুলিশি হস্তক্ষেপ চাইলে তাঁরা সেখানে প্রবেশ করেন।

এরপর পুলিশ দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের সরিয়ে দেয়। অরবিন্দ ভবনের বাইরে কয়েকটি পোস্টার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করার ঘটনা পুলিশের নজরে এসেছে। ভবনের ভিতরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন। সভা তখনও চলছিল। তাঁদের বাইরে বেরিয়ে আসতে বলা হলেও তাঁরা প্রথমে বেরোতে অস্বীকার করেন। পুলিশ অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরবর্তী কোনও অশান্তি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গেটের বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আনুমানিক মধ্যরাতে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় তাঁর সমর্থকদের নিয়ে যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন। অরিত্র সরকার নামে এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অভিযোগ দায়ের। মারধর, প্ররোচনা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। কমিউনিস্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে কেউ এখনও অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানিয়েছে লালবাজার।

ঘটনায় দু’পক্ষই প্রতিবাদের ডাক দেয়। গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মিছিলের কর্মসূচি ছিল। পরে তাঁদের যাদবপুর থানা পর্যন্ত অনুমতি মেলে। বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় সেই মিছিলে ছিলেন। অপর দিকে, ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে জমায়েত করে এসএফআই। তাঁদেরও যাদবপুর থানা পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ আটকে দেয়। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নামানো হয়েছে র‍্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।


Share