Calcutta High Court

কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকা ফের গড়াল হাই কোর্ট পর্যন্ত, আদালতের নির্দেশের পরও ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলল কমিশন

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। এখন শুনানির দিন নির্ধারণের অপেক্ষা।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:০৭

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ‘ট্রাবল মেকার’দের তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করল তৃণমূল। শাসকদলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আদালতের আগের নির্দেশ সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন ৩৫০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়েই দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। এখন শুনানির দিন নির্ধারণের অপেক্ষা।

এর আগে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তি ছড়াতে পারেন এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। সেই অনুযায়ী দ্বিতীয় দফার ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত মোট এক হাজার ৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, যেখানে ৪৭৯ জনকে আটক করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গ্রেফতার হয়েছে ২৪৬ জন, নদিয়ায় ৩২ জন। এছাড়া হুগলিতে ৪৯ জন এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে প্রথম দফার আগে একই ইস্যুতে হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা দিয়ে নির্বিচারে গ্রেফতারি চালানো যাবে না। সতর্কতামূলক আটক করতেও আইনের নির্দিষ্ট বিধি মেনে চলতে হবে। আদালত আরও জানায়, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হলেও তা সীমাহীন নয় অন্য প্রযোজ্য আইন থাকলে সেগুলিই মানতে হবে।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ হিসেবে চিহ্নিত করে ঢালাও পদক্ষেপ নেওয়া প্রাথমিকভাবে ভুল। নাগরিকের স্বাধীনতা কেবল আইনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা যায়। কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, কিন্তু প্রতিরোধমূলক আটকেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে চলা বাধ্যতামূলক। আদালত এ-ও জানায়, কমিশন যদি এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তা আপাতত স্থগিত রাখা হবে।

প্রসঙ্গত, প্রথম দফার আগে প্রায় ৮০০ কর্মী গ্রেফতার হতে পারেন এই আশঙ্কায়ই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের পক্ষ, যার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।


Share