Election Commission

১২ বছর নয়, দ্রুত শেষ হবে ভোটার-তালিকার শুনানি! আরও ২১ ট্রাইবুনাল গড়ছে কমিশন, নজরে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা

সূত্রের খবর, রাজ্যে আরও ২১টি ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন ট্রাইবুনাল গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বর্তমানে ১৯টি ট্রাইবুনাল রয়েছে। নতুন ২১টি যুক্ত হলে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪২-এ।

নির্বাচন কমিশন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫০

দ্রুত শুনানি করে যোগ্য আবেদনকারীদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্বাচন কমিশন ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে আরও ২১টি ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন ট্রাইবুনাল গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বর্তমানে ১৯টি ট্রাইবুনাল রয়েছে। নতুন ২১টি যুক্ত হলে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪২-এ। অর্থাৎ, প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য একটি করে ট্রাইবুনাল গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজ্যে বিতর্কের মধ্যেই ট্রাইবুনালের কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান পরিকাঠামোয় শুনানি শেষ করে সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রায় ১২ বছর সময় লাগতে পারে বলে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এরপরই দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু সংখ্যা বাড়ানোই নয়, শুনানি প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনাও করছে কমিশন। এই উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে ‘লোকেশন-অ্যাগনস্টিক’ সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে ট্রাইবুনালের বিচারপতিরা নির্দিষ্ট ভবনে উপস্থিত না থেকেও যে কোনও জায়গা থেকে শুনানি পরিচালনা করতে পারবেন। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা এবং আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশও প্রযুক্তির মাধ্যমে দেওয়া যাবে। ফলে ট্রাইবুনালের কাজ আর নির্দিষ্ট আদালতকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা অনেকটাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর হয়ে উঠবে।

কমিশনের এক কর্তার দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে শুধু সময়ই বাঁচবে না, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াও সম্ভব হবে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরকে ঘিরে একের পর এক আবেদন, আপত্তি এবং আইনি লড়াইয়ের জেরে কার্যত চাপে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে শুনানি ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বড় পদক্ষেপের পথে কমিশন। তবে ভোটার তালিকার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে ভারচুয়াল শুনানি এবং নয়া প্রযুক্তির ব্যবহার ঘিরে প্রশ্নও উঠছে। প্রস্তাবিত ‘লোকেশন-অ্যাগনস্টিক’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ট্রাইবুনালের বিচারপতিরা নির্দিষ্ট কোনও ভবনে উপস্থিত না থেকেও যে কোনও স্থান থেকে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত কতটা নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়েই ইতিমধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, ভোটার তালিকা নিছক কোনও প্রশাসনিক নথি নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকার গুরুত্ব সরাসরি ভোটাধিকার ও নির্বাচনী অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনও ভোটারের নাম তালিকায় থাকা বা বাদ পড়ার সিদ্ধান্তের প্রভাবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শুনানি ও দ্রুত নিষ্পত্তির যে প্রস্তাব সামনে এসেছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী অবস্থান নেয়, এখন সেটিই নজরে।


Share