Suvendu Adhikari

৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেই করলেন ‘স্ব-শুমারি’, ডিজিটাল জনগণনার সূচনা শুভেন্দুর, তথ্য গোপন রাখার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

এর মধ্য দিয়েই রাজ্যে জনগণনা প্রক্রিয়ার সূচনা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, জনগণনার জন্য রাজ্যবাসীর জমা দেওয়া সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন ও সুরক্ষিত রাখা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ ০২:২৩

শনিবার অনলাইনে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ সম্পন্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়েই রাজ্যে জনগণনা প্রক্রিয়ার সূচনা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, জনগণনার জন্য রাজ্যবাসীর জমা দেওয়া সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন ও সুরক্ষিত রাখা হবে। পাশাপাশি দেশের ষোড়শ জনগণনার দুই গুরুত্বপূর্ণ দিক- ‘স্ব-শুমারি’ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য দাখিলের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেছেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজ্যে শুরু হল জনগণনার কাজ। দেশজুড়েই একযোগে চলছে এই প্রক্রিয়া। অনলাইনে ‘স্ব-শুমারি’ (সেলফ এনুমারেশন)-এর মাধ্যমে নাগরিকদের মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে। নবান্নে বসে নিজেই ‘স্ব-শুমারি’ সম্পন্ন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘এ বারের জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১০০ শতাংশ ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। সেলফ এনুমারেশন অর্থাৎ স্ব-শুমারি হচ্ছে প্রথম বার।’’ তিনি জনগণনাকর্মীদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানান। পাশাপাশি, সহজ ও দ্রুত তথ্য দাখিলের জন্য সকলকে ‘স্ব-শুমারি’র সুবিধা গ্রহণেরও আহ্বান জানান।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, রাজ্যবাসীর দেওয়া সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত থাকবে। তাঁর কথায়, এই তথ্য শুধুমাত্র পরিসংখ্যান তৈরি, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের কোনও সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। এ বারের জনগণনার মূল বার্তা ‘জনগণের জনকল্যাণ’। সেই সঙ্গে জনগণনাকে সফল করার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে জনগণনা সফল হোক।’’

১৫ অগস্ট ‘স্ব-শুমারি’ পর্ব শেষ হওয়ার পর ১৬ অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের দেওয়া তথ্য যাচাই করবেন জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা। স্ব-শুমারিতে জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। কোথাও অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগও থাকবে। এ বারের জনগণনায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। গণনাকারীদের জন্য বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ হবে। একই সঙ্গে কাগজের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

স্ব-শুমারির জন্য অনলাইনে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সেখানে ব্যক্তিগত পরিচয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বাসস্থানের বিবরণ-সহ একাধিক তথ্য জানাতে হবে। এ বারই প্রথম জনগণনায় জাতিভিত্তিক তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এর ফলে সাধারণ মানুষ জাতিগত সুবিধা পাবেন। আলাদা করে তাঁদের লাইনে দাঁড়াতে হবে না। জাতিগত তথ্যে স্থায়ী পরিসংখ্যান থাকবে।’’ তিনি এই প্রসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকেও আঙুল তুলেছেন। বলেন, ‘‘বিগত সরকার সময়মতো কাজ শুরু করেনি। আমরা কাজটাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’’

এ দিকে প্রশ্ন উঠেছে, যাঁদের নাম এসআইআর তালিকায় বিবেচনাধীন, তাঁরা ‘স্ব-শুমারি’ (সেলফ এনুমারেশন) করতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এ সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। এর মধ্যে কিছু নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। প্রায় সাত লক্ষ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। বাকি প্রায় ২০ লক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া বা আবেদন জমা পড়েনি।

এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের দু’টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে- অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থী। যাঁরা অবৈধভাবে এ দেশে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের আইন অনুযায়ী শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অতীতে বীরভূমে যে ধরনের ত্রুটি হয়েছিল, তা আর হতে দেওয়া হবে না। অন্য দিকে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় থাকা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হিন্দু, শিখ, জৈন ও পারসি সম্প্রদায়ের যাঁরা বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে এসেছেন, তাঁদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ২০১৯ সালের সিএএ এবং ২০২৪ সালের সংশ্লিষ্ট বিধির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রাণ ও ধর্ম রক্ষার জন্য এ দেশে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হবে না এবং পুলিশও তাঁদের হয়রানি করতে পারবে না।


Share