Suvendu Adhikari

পূর্ণ‍্যার্থীদের ওপরে পুষ্পবৃষ্টি হবে, শ্রাবণী মেলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা মুখ‍্যমন্ত্রীর, মঙ্গলবার তারকেশ্বর যাবেন শুভেন্দু অধিকারী

চন্দননগরের আলো মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে। একাধিক আলোক শিল্পী কয়েক লক্ষ টাকার কাজ পেয়েছেন। জগদ্ধাত্রী পুজোর পর সাধারণত বড় কাজের জন্য দুর্গাপুজো পর্যন্ত তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। তাই শ্রাবণী মেলার এই কাজ শিল্পীদের কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।

শ্রাবণী মেলার জন‍্য একাধিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ০৩:২৯

মঙ্গলবার তারকেশ্বর যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরে শ্রাবণী মেলা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাবার মাথায় জল ঢালতে যাওয়া যাত্রীদের উদ্দেশ্যে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। তার জন‍্য হেলিকপ্টার ব‍্যবহার করা হবে। সরকারি উদ্যোগেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।

সোমবার নবান্নের সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, “শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীরা যান। আমি অনেক রাজ‍্যে দেখেছি, মানুষকে তাঁরা কী ভাবে সাহায্য করে। এতদিন রাজ‍্যের মানুষ তা থেকে বঞ্চিত ছিল।” তারকেশ্বর ধামের উন্নয়নের জন্য ১৫ কোটি টাকা সরকার ব্যয় করবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রতি বছর এই সময় লক্ষাধিক পূর্ণ‍্যার্থীর সমাগম হয় তারকেশ্বরে। বাবা মহাদেবে মাথায় জল ঢালতে আসেন তাঁরা। শেওড়াফুলি স্টেশন থেকে তারকেশ্বরের দূরত্ব প্রায় ৩৬ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটেই রওনা দেন। পূর্ণ‍্যার্থীদের যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েছে হয় তা নিয়ে একগুচ্ছ পদক্ষেপ রাজ‍্য সরকার করেছে।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, শেওড়াফুলি থেকে প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর সরকার সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে। তারকেশ্বরের বাবা ধামকে সাজানোর জন্য সরকার ১৫ কোটি টাকার কাজ করছে। এর মধ্যে পুলিশের সহায়তা কেন্দ্র থাকছে। অস্থায়ী ভাবে একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগারও তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তায় পূর্ণ‍্যার্থীদের জল এবং ওআরএস-সহ বাকি স্বাস্থ্য সম্মত জিনিস প্রদান করা হবে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শুধু তারকেশ্বর নয়, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভূটান সীমান্তের জয়ন্তী এলাকাতে আরও একটি মন্দিরে আসা পূর্ণ‍্যার্থীদের জন্য এই ব‍্যবস্থা সরকার করছে বলেও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আধ্যাত্মিক চেতনার এই ভূমিতে প্রতি সোমবার যেসব জলযাত্রী যাবেন, তাঁদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। সরকারি উদ্যোগে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা খেই পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।” আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। যদি ভালো থাকে তাহলেই হেলিকপ্টার আকাশে উড়বে। সরকারি উদ্যোগে করা হবে। আগামীকাল, মঙ্গলবার ১৪ জুলাই তারকেশ্বর যাবেন। সূত্রের খবর, সেখানে যাবতীয় পরিকল্পনা খতিয়ে দেখবেন বলে। মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার আগে সেখানে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এ বারের তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা নতুন রূপে সেজে উঠছে। মন্দির চত্বর থেকে গোটা যাত্রাপথের একাধিক জায়গায় বসানো হচ্ছে এলইডি আলোর গেট, বিভিন্ন প্লাকার্ড। ১২ ফুট লম্বা শিবের ত্রিশূল থাকছে। আলোর তৈরি ডমরুও দেখা যাবে। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে চারটি বিশাল আলোর গেটও তৈরি হচ্ছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তার দু’ধারের গাছও আলোর মালায় সেজে উঠবে।

চন্দননগরের আলো মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে। একাধিক আলোক শিল্পী কয়েক লক্ষ টাকার কাজ পেয়েছেন। জগদ্ধাত্রী পুজোর পর সাধারণত বড় কাজের জন্য দুর্গাপুজো পর্যন্ত তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। তাই শ্রাবণী মেলার এই কাজ শিল্পীদের কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।


Share