Suvendu Adhikari

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে নামল বুলডোজার, তিলজলায় মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী

আমরা এখন ‘জিরো টলারেন্স’-এর ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা সতর্ক হওয়ার হয়ে যান। যারা বেআইনি কাজকর্ম করছেন, তাঁদেরকেও আমরা সংশোধিত হতে এবং এই ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশিকা ও উপদেশ দিচ্ছি।”

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১০:৪২

শহর কলকাতায় টাকা বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ নতুন নয়। তৃণমূল জমানায় কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে একাধিক বার বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল। এ বার ক্ষমতায় আসতেই তা নির্মূল করতে আসরে নেমে পড়েলেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গতকাল তিলজলায় একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাতে দু’জনের মৃত্যু হয়। পাঁচ জন জখম হন। তার পরেই এফআইআর দায়ের করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। সেই কমিটি বুধবার সকালে নবান্নে রিপোর্ট জমা দেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, অবৈধ কোনও কাজ আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর এই কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায় বুধবার সকালে সেখানে কিছু হতে চলেছে। জল্পনা সত্যি করেই তিলজলার ওই অবৈধ নির্মাণটি ভেঙার জন্য বুলডোজার নিয়ে হাজির হন প্রশাসনেরর কর্তারা। কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কর্তারা সেখানে উপস্থিত হন। তা ইতিমধ্যেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। চার থেকে পাঁচটি বুলডোজার সেখানে এই মুহূর্তে কাজ করছে। সেখানে দু’টি বাড়ি ভাঙার কাজ চলছে। বাড়ির লোকেদের ভিতর থেকে জিনিসপত্র বের করে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। ওই এলাকায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। 

সকালে রিপোর্ট আসার পরেই কড়া পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনা নিয়ে বুধবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, “ওই অবৈধ কারখানার বা বিল্ডিং-এ কোনও প্ল্যান নেই। ফায়ার ও বিদ্যুতের সঠিক ব্যবস্থাও ছিল না। যা ছিল সবটাই অবৈধ।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান যে আমরা এই ঘটনার কারণে রাজ‍্য সরকার কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বলেন, “ঘটনার পরে তিলজলা থানায় মামলা করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে কারখানার মালিক-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদ‍্যুৎ সংস্থাকে স্থায়ী ভাবে সংযোগ কেটে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তাঁদের বলা হয়েছে, যত এই ধরণের অবৈধ কারখানা রয়েছে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য।” 

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুর এলাকায় বেশ কিছু অবৈধ এমন নির্মাণ রয়েছে। তিনি বলেন, “পুর এবং নগর উন্নয়ন দফতরের সচিবকে বলা হয়েছে, এক দিনের মধ্যে অবৈধ বিল্ডিংগুলো ভেঙে ফেলার জন্য। কলকাতা পুরসভা উদ্যোগে ও কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কলকাতা পুরসভকে কে বলা হয়েছে, এই ধরণের বিপদজ্জনক কারখানার জলের সংযোগ কেটে দিতে।” আমরা এখন ‘জিরো টলারেন্স’-এর ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা সতর্ক হওয়ার হয়ে যান। যারা বেআইনি কাজকর্ম করছেন, তাঁদেরকেও আমরা সংশোধিত হতে এবং এই ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশিকা ও উপদেশ দিচ্ছি।”


Share