Suvendu Adhikari

মমতার বাড়ির সামনে তেরঙ্গা যাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, হাজরা মোড় থেকে তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দু অধিকারীর

আগামী ৯ অগাস্ট থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এই মর্মে জেলা ও পুরসভাগুলিতে নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। প্রতিটি জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে এর জন্য অর্থ বরাদ্দও করা হয়েছে বলে খবর। রাজ্যজুড়ে জাতীয় পতাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবানীপুরে মিছিল করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৭:০২

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে রাজ‍্য সরকার। আগামী ৯ অগস্ট থেকে টানা ৯ দিন ব্যাপী সরকারি উদ্যোগে এই কর্মসূচি রাজ্যজুড়ে হবে। তার আগে শুক্রবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র মিছিল করলেন ভবানীপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। মিছিল শেষে তৃণমূলকে বললেন, রাজ‍্যে আগে যে সরকার ছিল এই কর্মসূচিতে যোগ দিত না।

বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জাতীয়তাবাদ’ প্রসঙ্গে আক্রমণ করেছিলেন। এই ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার জন‍্য একাধিক কটাক্ষ করেছিলেন। ধারা ৩৭০ বাতিল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, রামমন্দির ইস্যুতে মমতার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘মুসলিম লিগের’ সরকার বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোষণ নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। রাজ্যে জঙ্গিদের বাড়বান্ত নিয়েও একাধিক মিটিং-মিছিল করেছেন। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মিছিল সার্ভে বিল্ডিংয়ের মোড় থেকে শুরু হয়। হাজরা মোড়ে শেষ হয়। মিছিলটি রাজ‍্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়েই আসে। 

শুক্রবার হাজরার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি চালু করেছেন। গোটা ভারত তাতে অংশ নিয়েছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, আগামী প্রজন্মের কাছে রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ দেশাত্মবোধকে আরও জাগ্রত করা।” এর পরেই তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর আগে যারা এই রাজ‍্যে সরকারে ছিলেন, তাঁরা এই কর্মসূচিতে যোগ দিত না। এ বারে রাস্ট্রবাদী সরকার হয়েছে। এই প্রথম বার রাষ্ট্রবাদী সরকার গঠন হয়েছে। আমরা এসেই এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছি।”

উল্লেখ্য, আগামী ৯ অগাস্ট থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এই মর্মে জেলা ও পুরসভাগুলিতে নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। প্রতিটি জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে এর জন্য অর্থ বরাদ্দও করা হয়েছে বলে খবর। রাজ্যজুড়ে জাতীয় পতাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রভাতফেরি, দেশাত্মবোধক গান, এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হবে। 

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “১০ তারিখে সবচেয়ে বড় ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ হবে। রেড রোড থেকে বিড়লা তারামণ্ডল পর্যন্ত এই মিছিল হবে। ঐতিহাসিক তেরঙ্গা যাত্রা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মনে তেরঙ্গা। তাই এই কর্মসূচি সফল করুন।”


Share