Calcutta High Court

পুরভোটের পথে বড় আইনি বাধা কাটল, পুরনো ইভিএমের তথ্য মুছতে নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে পুরভোট আয়োজনের জন্য তারা প্রস্তুত।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৫৮

পুরভোট আয়োজনের পথে ইভিএম সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কাটল কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে। কলকাতা পুরসভার নির্দিষ্ট তিনটি ওয়ার্ড এবং কাঁথি পুরসভার ইভিএম বাদ দিয়ে, আগের বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহৃত ও সংরক্ষিত বাকি ইভিএমগুলির পুরনো তথ্য অবিলম্বে মুছে ফেলার নির্দেশ দিল আদালত। বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে পুরভোট আয়োজনের জন্য তারা প্রস্তুত।

ইভিএম ও ভিভিপ্যাট সংক্রান্ত মামলাটিতে আগেই আদালতকে কমিশন জানিয়েছিল, আগের একাধিক নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম এখনও সংরক্ষিত রয়েছে। সেই কারণে নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত সোমবার এই মামলায় কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল হাই কোর্ট। ইভিএম ও ভিভিপ্যাট থেকে সংগৃহীত ভোটের তথ্য আলাদা করে হার্ড ডিস্কে সংরক্ষণ করা সম্ভব কি না এবং আইনত সেই ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা জানতে চেয়েছিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। বুধবার কমিশনের বক্তব্য শোনার পর পুরনো তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় আদালত।

এ দিকে, প্রথম দফায় রাজ্যের সাতটি পুরসভায় ভোট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং। এই সাতটি পুরসভা মিলিয়ে মোট ৬,৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি। কমিশনের হাতে বর্তমানে ২১ হাজার ১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯ হাজার ৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যের পুরসভাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় একাধিক জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করে নাগরিক পরিষেবা চালানো হচ্ছে। বর্তমানে ১২টি জেলার অন্তত ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হাওড়া পুরসভা। সেখানে ২০১৩ সালে শেষ পুরভোট হয়েছিল। ২০১৮ সালে নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত নতুন করে ভোট হয়নি। ফলে গত ১৩ বছর ধরে হাওড়া পুরসভায় পুরভোটের অপেক্ষা চলছে।

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বকেয়া পুরভোট দ্রুত আয়োজনের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই লক্ষ্যেই এগোতে চাইছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ইভিএম সংক্রান্ত জটিলতা কাটায় আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে পুরভোট আয়োজনের প্রস্তুতি আরও গতি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।


Share