CID

সই জালিয়াতি কাণ্ডে তদন্তে কালীঘাটে তৃণমূলের দফতরে সিআইডি, ঘণ্টাখানেক বাগ্‌যুদ্ধের পর মিলল প্রবেশাধিকার

তিনি তদন্তকারীদের জানান, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকলেও তল্লাশির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই।

কালীঘাটে তৃণমূল কার্যালয়ের পৌঁছেছে সিআইডির একটি দল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৫:৩৮

সই-কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছোল সিআইডির একটি বিশেষ দল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে আসে তদন্তকারীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। তবে প্রথমে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধার মুখে পড়তে হয় সিআইডিকে। প্রায় এক ঘণ্টার বাদানুবাদের পর বিকেল চারটে নাগাদ তারা ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে বাসে করে মহিলা পুলিশ-সহ সিআইডির একটি বড় দল কালীঘাটের তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছোয়। গেটের বাইরে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ও দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। তিনি তদন্তকারীদের জানান, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকলেও তল্লাশির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা আইন মেনে তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি চালাতে এসেছে এবং কার্যালয়ে কারা উপস্থিত রয়েছেন, তার সঙ্গে তদন্তের কোনও সম্পর্ক নেই। তদন্তকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো নোটিসও দেখান। কিন্তু শুভাশিস চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত না থাকায় তিনি কোনওভাবেই সিআইডিকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দিতে পারবেন না। তিনি তদন্তকারীদের কয়েক দিন সময় দেওয়ারও অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট শুধু তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ই নয়, একই ঠিকানায় বসবাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বর্তমানে বিজেপি-বিরোধী 'জোট ইন্ডিয়া'র বৈঠকে যোগ দিতে তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই পরিস্থিতিতেই কালীঘাটে তল্লাশি অভিযানে যায় সিআইডি।

তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কথিত সই-কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা যে প্রস্তাবিত চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তাতে কয়েক জন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। যে বৈঠকে ওই সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি কালীঘাটের এই কার্যালয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

তদন্তকারীরা ওই দিনের বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা সই করেছিলেন এবং ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখতে চায় সিআইডি। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত বিকেল চারটার কিছু পরে তৃণমূল কার্যালয়ে প্রবেশ করে তদন্তকারী দল। বাইরে মোতায়েন ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

প্রসঙ্গত, সই-কাণ্ডের তদন্তে গত ৩০ মে প্রথম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডি। ১ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি এবং অতিরিক্ত ১৪ দিনের সময় চান। তবে তদন্তকারী সংস্থা সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। পরে ফের নোটিস পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও সোমবার পর্যন্ত তিনি সিআইডির সামনে হাজিরা দেননি। এই পরিস্থিতিতে তদন্তের অগ্রগতি ঘটাতেই মঙ্গলবার কালীঘাটের তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় সিআইডি।


Share