Abhishek Banarjee

সিআইডির তলবে গড়হাজির তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে গেল সিআইডি, অসুস্থতার ‘বাহানা’ দেখিয়ে নামলেন না

বিধানসভায় সই-কান্ডে সোমবার দুপুর ১২টার সময় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি ভবানী ভবনে ডেকে পাঠায়। কিন্তু তিনি অসুস্থতার ‘বাহানা’ দিয়ে যাননি। সিআইডির কাছে ১৫ দিনের সময় চেয়েছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডির আধিকারিকেরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:০১

বিধানসভায় সই-কান্ডে সোমবার দুপুরে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিল সিআইডি। তিনি পুলিশের তলবে গড়হাজির ছিলেন। তাই বিকেলেই কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডির বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা পৌঁছে যান। গেট বন্ধ থাকায় তাঁরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থতার ‘বাহানা’ দিয়ে নীচে নামলেন না। অভিষেককে ফের ৮ জুন ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ সিআইডির বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা আসেন। সেখানে এসে গেটের বাইরে প্রায় আধ ঘন্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করেন। তার পরে অভিষেকের অফিসের এক কর্মী এসে সিআইডির আধিকারিকদের জানান, সাংসদ অসুস্থ আছেন। বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলার পরে তাঁর হাতেই নোটিস দিয়ে সাক্ষর করিয়ে বেরিয়ে যান।

বিধানসভায় সই-কান্ডে সোমবার দুপুর ১২টার সময় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি ভবানী ভবনে ডেকে পাঠায়। কিন্তু তিনি অসুস্থতার ‘বাহানা’ দিয়ে যাননি। সিআইডির কাছে ১৫ দিনের সময় চেয়েছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছে। তবে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়নি। সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার দুপুর ১২টায় অভিষেককে আবার ভবানী ভবনে হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সই-সঙ্কটে ভুগছে তৃণমূল। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে তাদের। অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। এই ঘটনার তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করছে সিআইডি। উল্লেখ্য, পরে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল।

সেই তদন্তের সূত্র ধরে শনিবার অভিষেকের বাড়িতে যায় সিআইডি। প্রথমে বোঝা যায়নি কেন রাজ্যের গোয়েন্দা দল তৃণমূল সাংসদের বাড়ি গিয়েছে। পরে জানা যায়, সই-কাণ্ডের তদন্তে নোটিস ধরাতে গিয়েছিল তারা। সোমবার বেলা ১২টায় অভিষেককে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল। যদিও তৃণমূল সাংসদ সিআইডি-কে চিঠি পাঠিয়ে জানান তিনি হাজিরা দিতে পারছেন না। অভিষেকের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণেই ভবানী ভবনে হাজিরা দিচ্ছেন না অভিষেক। ওই সূত্রের দাবি, অভিষেকের ডান দিকের চোয়াল, ঘাড় এবং বুকের আশপাশে এখনও ব্যথা রয়েছে। আপাতত বাড়িতেই রয়েছেন তিনি। হাজিরার জন্য সিআইডি-র কাছে অভিষেক ১৪ দিন সময় চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তার মধ্যে সোমবারই অভিষেকের বাড়িতে গেল সিআইডি-র দল।

প্রসঙ্গত, শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিষেক। ওই দিন রাতেই বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেককে। সেখানে চিকিৎসা না-হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে পরে মিন্টো পার্কের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি করানোর মতো গুরুতর শারীরিক পরিস্থিতি নয়। অভিষেককে বাড়িতেই বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।


Share