Chorbagan Stampede

১০ বার ভাঙে ব্যারিকেড, জনস্রোত সামলাতে কার্যত ব্যর্থ উদ্যোক্তারা! চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল?

চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর আগে তিন দিনে অন্তত ১০ বার ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আহত হন ৩৫ জন, গ্রেফতার সাত জন।

এর আগেও একাধিকবার ব‍্যারিকেড ভাঙে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২০

চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এল আরও উদ্বেগজনক তথ্য। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আগের তিন দিনেই অন্তত ১০ বার ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গিয়েছে। ভিড় সামলানোর জন্য মণ্ডপের প্রবেশপথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার আগের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়ে জনস্রোত

ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, চোরবাগান সর্বজনীন (সারদা পার্ক) পুজোমণ্ডপের প্রবেশপথে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় সামলানোর চেষ্টা করছেন মাত্র দু’জন পুলিশকর্মী। তাঁদের হাতে ছিল লাঠি। প্রথম দিকে ভিড় নিয়ন্ত্রণে অন্য কোনও স্বেচ্ছাসেবককে বিশেষভাবে দেখা যায়নি। মণ্ডপে প্রবেশের জন্য অধৈর্য দর্শনার্থীরা ব্যারিকেডের দিকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। একসময় প্রবল জনস্রোতের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। বাঁশ দিয়ে তৈরি ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছিল বলে সূত্রের খবর।

পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম পুলিশ

ভিডিয়োয় দেখা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে আরও এক জন কনস্টেবল এগিয়ে আসেন। কিন্তু বিপুল ভিড়ের চাপে মাত্র তিন জন পুলিশকর্মীর পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভিড়ের চাপ থেকে নিজেদের বাঁচাতে পুলিশকর্মীদের সরে যেতে দেখা যায়। পরে তিন পুলিশকর্মী ও এক স্বেচ্ছাসেবককে ব্যারিকেড সরিয়ে দিতে দেখা গিয়েছে বলে ভিডিয়োয় দাবি করা হয়েছে। এরপর দর্শনার্থীদের একটি বড় অংশ ঠেলাঠেলি করতে করতে দ্রুত মণ্ডপের দিকে এগিয়ে যান।

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

‘ডক্টর অভিনব পাল’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই একই ধরনের পরিস্থিতির ভিডিয়ো সামনে এসেছে। এতবার ব্যারিকেড ভাঙার পরেও কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন পোস্টদাতা।

উল্লেখ্য, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছিলেন ৩৫ জন। ঘটনার পর ১৪ জনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। লালবাজার সূত্রের খবর, এই ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার আগে ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।


Share