Chor Bagan Incident

চোরবাগান-কাণ্ডে পুলিশের ঘাড় থেকে দায় সরালেন মুখ্যমন্ত্রী! অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, চাইলেন তিন বছরের তালিকা

বরং ঘটনার জন্য অস্থায়ী হোমগার্ডদের একাংশের ভূমিকার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গত তিন বছর ধরে পুজোর কাজে যুক্ত রয়েছেন ওই অস্থায়ী হোমগার্ডরা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:২৬

চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ভয়াবহ ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগের তির পুলিশের দিকে। তবে সেই অভিযোগ মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, উদ্ধারকর্মী এবং আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, পুলিশ যথেষ্ট সাহায্য করেছে। বরং ঘটনার জন্য অস্থায়ী হোমগার্ডদের একাংশের ভূমিকার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গত তিন বছর ধরে পুজোর কাজে যুক্ত রয়েছেন ওই অস্থায়ী হোমগার্ডরা।

পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও অনেক ‘আবর্জনা’ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। অস্থায়ী হোমগার্ডদের তালিকাও চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পুজোর মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে দাঁড়িয়েই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ওই দল। এ ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের কমিশনারের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ভয়াবহ ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগের তির পুলিশের দিকে। তবে সেই অভিযোগ মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, উদ্ধারকর্মী এবং আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, পুলিশ যথেষ্ট সাহায্য করেছে। বরং ঘটনার জন্য অস্থায়ী হোমগার্ডদের একাংশের ভূমিকার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গত তিন বছর ধরে পুজোর কাজে যুক্ত রয়েছেন ওই অস্থায়ী হোমগার্ডরা।

পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও অনেক ‘আবর্জনা’ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। অস্থায়ী হোমগার্ডদের তালিকাও চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পুজোর মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে দাঁড়িয়েই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ওই দল। এ ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের কমিশনারের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

চোরবাগানের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার সকালে সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির কয়েক জন কর্তা, ভিআইপি পাস সামলানো ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এবং একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্মী। এই বিপর্যয়ের পর স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ ছিল, ঘটনার সময় পুলিশকে ডেকেও পাওয়া যায়নি। তাঁরাই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। যদিও সেই অভিযোগ মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আহতদের পরিবারের কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, পুলিশই অ্যাপ ক্যাবের ব্যবস্থা করে তাঁদের হাসপাতালে পাঠিয়েছিল।

এর পরেই ঘটনার জন্য অস্থায়ী হোমগার্ডদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মূল অভিযোগ অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে। আগে দু’বছর ডিউটি করেছে। এ বার তৃতীয় বছর। পুরো তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছি।” কেন তাঁদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “কাল রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঘটনা ভিতরে হয়নি। যা মনে হল, প্রবেশ এবং প্রস্থানপথ এক। সেটা দড়ি দিয়ে ভাগাভাগি করা হয়েছিল। বৃষ্টি নামায় হোমগার্ডেরা দড়ি ফেলে পালায়।” এক অস্থায়ী হোমগার্ডের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “ওরা কারা? অনেক গারবেজ নিয়ে চলছি।”

চোরবাগান বিপর্যয়ের পর রবিবার সকালে ভবানী ভবনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, আগামী ২০ ও ২১ অক্টোবর মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের পর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিকেরা মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেবেন। শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পরিবারের পাশে থাকবেন। শোকের কারণে পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কলকাতার পুজোমণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, দমকলের ডিজি এবং ডিজিএসটিএফের নেতৃত্বে ওই দল বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করবে। কোথাও ত্রুটি নজরে এলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিসি এবং স্থানীয় থানার ওসি-কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দের সুপারিশের প্রয়োজন হবে না। মণ্ডপে দাঁড়িয়েই দলের সদস্যেরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ-সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কোনও মণ্ডপে ভিআইপি লাইন রাখা যাবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নিজেও লালবাজারের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে যাবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “শহরের অবস্থা চোখ দিয়ে দেখা উচিত। কান দিয়ে নয়।”

চোরবাগানের বিপর্যয়ে পুজো কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশেরও গাফিলতি ছিল বলে মেনে নিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “আয়োজকদের ত্রুটি আছে। লোকাল পুলিশেরও দেখা উচিত ছিল।” ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে পুরসভা, পুলিশ ও দমকল পুজোর অনুমতি দিয়েছে, তাদের এই তদন্তকারী দলের বাইরে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রস্তাব, কর্তব্যরত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে ওই দল গঠন করা হোক।

এ বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। কর্তব্যরত বিচারপতিকে পাওয়া না গেলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বেও দল গঠন করা হতে পারে। দলে স্বরাষ্ট্র দফতরের অন্তত যুগ্মসচিব পদমর্যাদার আধিকারিক, ডিজিপির প্রতিনিধি হিসেবে এক জন এডিজি এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব থাকবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির প্রকাশিত পোস্টারে দেখা গিয়েছে, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা ওই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষের নামও এই পুজোর সঙ্গে জড়িত বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

এই বিষয়টি সামনে আসতেই সরব হয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য তথ্য অনুসন্ধানকারী দল গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু।

চোরবাগানের বিপর্যয়ের আবহে আগামী ২৬ অক্টোবর মিলন মেলায় আড়ম্বরহীন বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে কলকাতা ও পাঁচটি পুলিশ কমিশনারেট এলাকার পুজো উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। চোরবাগানের ঘটনায় আহত ২৫ জনের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে। আগামী বছরের পুজোয় যাতে এমন বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সতর্ক করবেন বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “সেখানেই বলব, পরের বছরের পুজোর ব্যবস্থা এমন ভাবে হোক, যাতে ত্রুটি না থাকে।”


Share