Chor Bagan Incident

চোরবাগানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের জের, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ৩ দিনের জন্য ১৬৩ ধারা জারি, গ্রেফতার পুজো কমিটির সম্পাদক-সহ ৭

পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী, চোরবাগান সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। কলেজ স্ট্রিট, কলুতলা ও সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

চোরবাগানের ঘটনার পর জারি ১৬৩ নং ধারা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪৮

চোরবাগানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরই সতর্ক রাজ্য প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আগামী তিন দিনের জন্য ১৬৩ ধারা জারি করল লালবাজার। পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী, চোরবাগান সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। কলেজ স্ট্রিট, কলুতলা ও সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অন্য দিকে, চোরবাগানের ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার। ধৃতদের মধ্যে পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতি রয়েছেন। পাশাপাশি, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কী কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। এরপরই পুজো উদ্যোক্তা-সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গিরিশ পার্ক থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে লালবাজার। অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র-সহ বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চোরবাগানের একাধিক পুজো উদ্যোক্তা-সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা। তাঁদের জেরা করে কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, তা বোঝার চেষ্টা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপরই এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ধৃতদের নাম রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা, শান্তনু দুবে, বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, কৌশিক সাহা, পিন্টু দে, সুমন চক্রবর্তী এবং রাজেশ পাল। ধৃত রাজকুমার ও শান্তনু চোরবাগান পুজো কমিটির যথাক্রমে সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বাঁশের কাঠামো লাগানোর দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব মুখোপাধ্যায়। অন্য দিকে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং ভিআইপি পাস পরীক্ষা করার দায়িত্বে ছিলেন কৌশিক সাহা ও পিন্টু দে। এ ছাড়াও একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্তা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার।

এ দিকে, ঘটনার পর থেকেই চোরবাগান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। পাশাপাশি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকার একাধিক রাস্তায় জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।

লালবাজারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বউবাজার থানার অন্তর্গত চোরবাগান পুজো মণ্ডপের আশপাশের রাস্তাগুলিতে কোনও জমায়েত করা যাবে না। কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ, কলুটোলা স্ট্রিটের কলেজ স্ট্রিট থেকে সিআর অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ইডেন হাসপাতাল রোডের সিআর অ্যাভিনিউ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।


Share