Debraj Chakraborty

দেবরাজ-অদিতির বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে ফের চার্জশিট, ‘বেআইনি’ ১০০ কোটির টাকার লেনদেনের দাবি, ভোটের আগে টাকা সরানোর অভিযোগ

একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধেও চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনা, জমি দখল, তোলাবাজি এবং প্রতারণার মতো একাধিক অভিযোগ এনেছে।

দেবরাজ-অদিতির বিরুদ্ধে ফের বারাসত আদালতে পেশ চার্জশিট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত
  • শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:২৭

বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বুধবার বারাসত আদালতে ফের চার্জশিট জমা দিল পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধেও চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনা, জমি দখল, তোলাবাজি এবং প্রতারণার মতো একাধিক অভিযোগ এনেছে।

সূত্রের খবর, চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, বেআইনি পথে উপার্জিত অর্থের একাংশ তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। এই অর্থের সঙ্গে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। চার্জশিট জমা দেওয়ার পর বুধবার সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, ‘‘বেআইনি পথে পাওয়া টাকার অঙ্ক ১০০ কোটির কম নয়।’’ তাঁর আরও দাবি, ভোটের আগে ওই টাকার একাংশ অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ দিন সরকারি আইনজীবী আরও জানান, মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি হুমকি পেয়েছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ তা নিয়ে তদন্ত করছে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ১১১ ধারা-সহ একাধিক ধারায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ চার্জশিট পেশ করেছে। চার্জশিটে পরবর্তী তদন্তের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য বা প্রমাণ উঠে এলে প্রয়োজনে অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সরকারি আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, বেআইনি পথে পাওয়া টাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত বৈদ্যুতিন এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে আদালতকে জানান তিনি। এর আগে গত ৬ অগস্ট পুলিশ দেবরাজের বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছিল।

সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে দেবরাজ এবং অদিতির বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করেছিলেন। দেবরাজ বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলরও ছিলেন। দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি তৈরি, সেই সম্পত্তি গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অদিতির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম করে দেখানোর অভিযোগও ওঠে।

গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচ চেয়ে দেবরাজ ও অদিতি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শিশুসন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে অদিতিকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত। তবে দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর গত ১ জুলাই পুরুলিয়া থেকে দেবরাজকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফের যৌথবাহিনী।


Share