Mamata Banerjee

সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলা যাবে না, ভবানীপুরে ভোটের ফলাফল নিয়ে মমতার মামলায় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

গত ১৬ জুন কলকাতা হাই কোর্টে সশরীরে এনে নির্বাচনী হলফনামা দাখিল করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ওই কেন্দ্রের নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে। তাঁকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মামলার শুনানি মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে হয়েছে।

ভবানীপুরে নির্বাচন নিয়ে নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০২:১৯

ভবানীপুরের বিধানসভায় নির্বাচনে ব‍্যবহৃত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছেন। তার পরেই তিনি ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।

গত ১৬ জুন কলকাতা হাই কোর্টে সশরীরে এনে নির্বাচনী হলফনামা দাখিল করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ওই কেন্দ্রের নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে। তাঁকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মামলার শুনানি মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে হয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। ইভিএম এবং ভিভিপ‍্যাটের তথ‍্য সংরক্ষণ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া তা কোনও ভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। আগামী দু’মাস পর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

ভারতে নির্বাচনী তথ্য সংরক্ষণ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী, ফলাফল প্রকাশের ৪৫ দিন পর্যন্ত সিসি ক‍্যামেরা, ওয়েবকাস্টিং-এর ফুটেজ সংরক্ষিত রাখতে হয়। কাগজে ছাপানো ভিভিপ‍্যাটের স্লিপ এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখতে হয়। ওই সময়কালের মধ্যে যদি ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানানো মামলায় যদি আদালত নির্দেশ দেয়, সেক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব তথ্য সংরক্ষণ করতে হয়। একইভাবে, কমিশনের ওই আইন অনুযায়ী, ইভিএমের মেমোরি লগও ৪৫ দিন সংরক্ষণ রাখতে হয়।

গত ২০২৪ সালে পুরোনো আইনের সংশোধন করে এই নতুন বিধি চালু করা হয়েছে। এই আইন কার্যকর করার হওয়ার আগে পর্যন্ত এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত সব তথ্য সংরক্ষিত রাখা যেত। ১৯৬১ সালের সেই ‘কনডাক্ট অফ ইলেকশন রুলস’-এর বিধিতে সংশোধন ঘটানো হয়। ভোটারদের 'গোপনীয়তা রক্ষা'কে অগ্রাধিকার দিতেই এই বিধি চালু হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটারদের তথ্যকে অপব্যবহারের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিধিতে সংশোধন করা হয়েছিল। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪৫ দিনের সময়সীমার মধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হন। এ দিন সেই মামলাতেই তথ্য সংরক্ষণের জন্য কমিশনকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে নির্বাচনী হলফনামা দাখিল করেন মমতা। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালেও নন্দীগ্রাম থেকে হেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাই কোর্টে নির্বাচনী হলফনামা দাখিল করেছিলেন। সেই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন।


Share