Suvendu Adhikari

পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করবে সিবিআই, সুপ্রিম কোর্টে মামলা থেকে সরে দাঁড়াল রাজ্য সরকার, সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে। ওই দিন তৎকালীন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলে মামলা চলছিল। সেই সময় কলকাতা হাই কোর্টের কাছে তিনটি বেনামি চিঠি আসে। তা খতিয়ে দেখার পরে বিশ্বজিৎ বসু সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১১:২০

জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, সিবিআই। কলকাতা হাই কোর্ট এই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তভার সিবিআইকে দিয়েছিল। তা চ‍্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ‍্য সরকার। শুক্রবার রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জানান, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলা থেকে তাঁরা সরে আসবেন। ফলে কলকাতা হাই কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল তা মেনেই সিবিআই এই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করবে।

এ দিন পাহাড়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে নবান্নে প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এনডিএ জোটের শরিক হিসাবে বিমল গুরুং এবং রোশন গিরিকেও এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। নবান্নের বৈঠকে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং পাহাড়ের স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকেরা। অনেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়েছিলেন। জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত বৈঠকে যোগ দেন। ছিলেন পাহাড়ের নবনির্বাচিত তিন বিধায়ক।

শুক্রবারের বৈঠক থেকে রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “আমাদের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে একটি ছিল এই জিটিএ’র শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। সেখানে ৪০০ জনকে অবৈধ ভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। হাই কোর্টে এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। তা চ‍্যালেঞ্জ করে তৎকালীন রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার তদন্তে স্থগিতাদেশ দেয়।”

এর পরেই এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফলে কলকাতা হাই কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল তা বহাল থাকবে। সিবিআই এই মামলার তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করবে।” রাজ‍্যের মুখ‍্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালকে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন।

ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে।  ওই দিন তৎকালীন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলে মামলা চলছিল। সেই সময় কলকাতা হাই কোর্টের কাছে তিনটি বেনামি চিঠি আসে। তা খতিয়ে দেখার পরে বিশ্বজিৎ বসু সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। এরই মাঝে বিধাননগর উত্তর থানায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, স্কুল পরিদর্শক প্রাণগোবিন্দ সরকার-সহ সাত থেকে আট জনের নাম রয়েছে। সেই এফআইআরে প্রান্তিক চক্রবর্তী, বুবাই বোস, দেবলীনা দাসের মতো তৃণমূলের নেতাদের নাম রয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য সরকার মামলা করে। ওই মামলাতে ডিভিশন সিবিআইয়ের নির্দেশ বহাল রাখে। পুলিশ এই মামলার তদন্ত করতে পারবে না বলেও নির্দেশ দেয়।

তা চ‍্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআই তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। রাজ‍্যে পালাবদল হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি তাঁরা নিয়েছে। শুক্রবার তা নিয়েই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, সুপ্রিম কোর্টের মামলা থেকে রাজ্য সরকার সরে দাঁড়াবে। তাই এই জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত করবে সিবিআই।


Share