CBI

ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন রেলের আধিকারিক, হাওড়া স্টেশনে সিবিআইয়ে অভিযানে পাকড়াও ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার-সহ তিনজন

ধৃত দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সিগনাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে রয়েছেন। সিবিআই জানিয়েছে, ২৪ জুলাই ওই রেলের আধিকারিক এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখায় মামলা দায়ের করা হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭

ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল রেলের আধিকারিক। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদার সংস্থার দুই প্রতিনিধিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) ঘটনাস্থল থেকে লক্ষাধিক টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। তাঁদের আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

ধৃত দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সিগনাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে রয়েছেন। সিবিআই জানিয়েছে, ২৪ জুলাই ওই রেলের আধিকারিক এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখায় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ, ওই সরকারি কর্মী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে। এমআরটি সিগন্যাল লিমিটেড নামে একটি সংস্থার কাছ থেকে ঘুষ নিতেন। বদলে পিভিসি (প্রাইস ভেরিয়েশন ক্লজ) সংক্রান্ত ফাইলের প্রক্রিয়াকরণ এবং অনুমোদন দিতেন। এটা করে অর্থের বিনিময়ের চক্রধরপুর ডিভিশনের রেলের সিগন‍্যাল সংক্রান্ত কাজে বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধা পাইয়ে দিতেন।

সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের মে মাসে একই পিভিসি (কনট্রাক্ট ভ্যারিয়েশন ক্লজ) ফাইলের প্রক্রিয়াকরণে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত রেলের আধিকারিক আগে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, কাজ পাওয়ার পরে আরও চার লক্ষ টাকা ঘুষের দাবি করেছিলেন।

এর পরেই সিবিআইয়ের আধিকারিকেরা ফাঁদ পাতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দুর্নীতি দমন অভিযানে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছোন। সেই সময় এমআরটি সিগন্যাল লিমিটেড নামে ওই সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ওই রেলের আধিকারিক ঘুষের টাকা নিচ্ছিলেন। আর সেই সময় অভিযুক্ত রেলের আধিকারিককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তাঁদের কাছ থেকে চার লক্ষ টাকা নিচ্ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চার লক্ষ টাকা ঘুষের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 

অভিযুক্ত ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর নাম প্রকাশ করেনি সিবিআই। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার দুই প্রতিনিধিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের একাধিক স্থানে অভিযুক্তদের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনিবার কলকাতার বিশেষ আদালতে আদালতে পেশ করা হয়েছে।

সিবিআই জানিয়েছে, “এটি গত কয়েক বছরে রাজ‍্যে ঘুষ সংক্রান্ত প্রথম ‘ট্র্যাপ কেস’। আমাদের অঙ্গীকার, দুর্নীতি দমনে এবং দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মী ও বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।“


Share