Calcutta High Court

কোমরে দড়ি বেঁধে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ঘোরানো হচ্ছে কেন! রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব কলকাতা হাই কোর্টের, মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কড়া প্রশ্ন

আদালত জানতে চেয়েছে, অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বাঁধার কারণ কী ছিল এবং তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আদৌ ছিল কি না।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ০৭:২৬

নির্যাতিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানো কেন হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। এ ধরনের একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের কাছে চার সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সম্মানহানি করতে পারে না। আদালত জানতে চেয়েছে, অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বাঁধার কারণ কী ছিল এবং তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আদৌ ছিল কি না।

সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন পুরনো ও গুরুতর মামলায় একাধিক রাজনৈতিক নেতার গ্রেফতারির ঘটনায় অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই ধরনের আচরণ অপমানজনক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।

এ দিন আদালতে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে পৃথক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি হাওড়ায় এক অভিযুক্তকে স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফ প্যান্ট পরিয়ে শহরের রাস্তায় হাঁটিয়ে ‘ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন’ করা হয়। একইভাবে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় যুব তৃণমূল নেতা অভিজিৎ রায় ওরফে বনিকে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দেয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই আদালতের এই কড়া অবস্থান।


Share