TMC Political Crisis

তৃণমূলের ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ থাকবে, ইডির বিরুদ্ধে মামলায় হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট

নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে দলের অন্দরেই ভাঙন হয়েছে। একের পর এক বিধায়কেরা মমতা এবং অভিষেকের নেতৃত্ব অস্বীকার করে অন্য শিবিরে যোগ দিয়েছে। দলের তহবিল এবং প্রতীক কার দখলে যাবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।

হাই কোর্টে ধাক্কা খেল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ১২:২১

আবার কলকাতা হাই কোর্টে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ধাক্কা খেল। ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট ফ্রিজ কারা সংক্রান্ত ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। কেন্দ্রীয় সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতাপন্থী তৃণমূলের গোষ্ঠী। হাই কোর্ট তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আপাতত ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। অন্তর্বর্তীও কোনও নির্দেশ দিতে চাননি বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।

তৃণমূলের মোট তিনটি ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। তাতে ৪৪০ কোটি টাকার বেশি রয়েছে। ইডির অভিযোগ, ওই অ‍্যাকাউন্ট থেকে বিমান এবং হেলিকপ্টার কেনার জন্য টাকা একটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ম মেনে করা হয়নি। বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তাই সেই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।

এই সিদ্ধান্তকে চ‍্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যায় কালীঘাটের তৃণমূলের গোষ্ঠী। ইডির সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দাবি করে। বিচারপতি রাও তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য যে শর্তে এই অ‍্যাকাউন্ট ব‍্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিল তাই বহাল থাকবে। পাশাপাশি বিচারপতি রাও এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশও জারি করতে রাজি হননি।

নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে দলের অন্দরেই ভাঙন হয়েছে। একের পর এক বিধায়কেরা মমতা এবং অভিষেকের নেতৃত্ব অস্বীকার করে অন্য শিবিরে যোগ দিয়েছে। ২০ জন সাংসদ এনপিসিআইতে যোগ দিয়েছে। দলের তহবিল এবং প্রতীক কার দখলে যাবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তৃণমূলের বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই তিনটি অ‍্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়।

পুলিশের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। শর্তসাপেক্ষে ওই তিনটি অ‍্যাকাউন্ট ব‍্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর নির্দেশ ছিল, কাজের জন্য একজন স্পেশ্যাল অফিসার করবেন। তিনিই আপাতত অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করবেন। তাঁর মাধ্যমেই ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টের টাকা প্রয়োজনে তুলতে পারবে কালীঘাট। আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের সই করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষরের পরেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। স্পেশ্যাল অফিসার আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করবেন। মমতাপন্থী তৃণমূল চাইলে এই অ্যাকাউন্টের টাকা আইনি খরচের জন্যও ব্যবহার করতে পারবে বলেও জানিয়েছিল আদালত।


Share