Calcutta High Court

অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার দমকলের নোটিস খারিজ, নতুন করে পরিদর্শনের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

ওই নোটিসে ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল দফতর কবে ফের পরিদর্শন করা হবে, দমকলকে তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। নোটিস দেওয়ার পর দমকল বাহিনী নির্দিষ্ট দিনে ওই দফতরে গিয়ে পরিদর্শন করবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৫

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার নির্দেশ দিয়ে দমকলের জারি করা নোটিস খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। এর আগে রাজ্যের উচ্চ আদালত ওই নোটিসের উপর অন্তর্বর্তিকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ দমকলকে কালীঘাট তৃণমূলকে নতুন করে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ওই নোটিসে ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল দফতর কবে ফের পরিদর্শন করা হবে, দমকলকে তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। নোটিস দেওয়ার পর দমকল বাহিনী নির্দিষ্ট দিনে ওই দফতরে গিয়ে পরিদর্শন করবে। পরিদর্শনের পর অফিসের অগ্নি-নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য কী কী ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা কালীঘাট তৃণমূলকে জানাবে দমকল। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী তৃণমূলকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ করতে হবে। আদালত জানিয়েছে, দমকলের দেওয়া নির্দেশিকা মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে পারবে।

৯ ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর রয়েছে। সেখান থেকে বিলবোর্ড খুলে আনতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক-অনুগামীদের হাতাহাতি হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পরেই দমকল বাহিনী ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনে যায়। দমকল আধিকারিকেরা ভবনের প্রতিটি তলা ঘুরে পরিদর্শন করেন। এর পরেই দমকল বিভাগ ভবনের মালিককে নোটিস পাঠায়।

নোটিসে অভিযোগ করা হয়, সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা যথাযথ নয়। সেই কারণে ওই দুই তলা অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মালিকপক্ষও অভিষেকের দফতর খালি করার নির্দেশ দেয়। দমকলের সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেই কালীঘাট শিবির কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

গত শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী কিশোর দত্তের সওয়াল, ‘‘৯ ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম ও অষ্টম—এই দু’টি তলার লিজ় নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ২৬ অগস্ট লিজ় বাতিল করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে মামলা হয় নিম্ন আদালতে। এখন দমকল বিভাগ বলছে যে, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। তারা ভবনটি পরিদর্শন করে জানিয়েছে, ছাদে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। সপ্তম তলায় বেশ কয়েকটি গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা রয়েছে। পুরো ভবনটিতেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথেষ্ট নেই বলে ঘোষণা করা উচিত ছিল। কিন্তু দমকল বিভাগ কেবল সপ্তম ও অষ্টম তলাকেই নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছে। সিলিন্ডারগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই ত্রুটিগুলি ভবনের মালিককেই ঠিক করতে হবে।’’

রাজ্যের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সুরজিৎ মিত্র জানান, ভবনের সাত তলায় প্রচুর সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছিল। বিষয়টি বাড়ির মালিকও অস্বীকার করেননি। এজি আরও জানান, ওই ভবনের দু’টি তলায় ফায়ার অ্যালার্ম কাজ করছিল না। ৪৫টি ফায়ার স্প্রিংকলার থাকলেও অন্যান্য তলার তুলনায় সেই সংখ্যা ছিল অনেক কম। এ ছাড়াও একাধিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল বলে আদালতে দাবি করে রাজ্য।

অন্য দিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ওই ব্যবস্থাগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাড়ির মালিকের। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও দমকলের জারি করা নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। বুধবারের শুনানিতে সেই নোটিসই খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট।.. 


Share