Election Commission

ভোটার তালিকা সংশোধনে বাড়ি বাড়ি বিএলও, ‘আক্রান্ত’ হওয়ার আশঙ্কা! নিরাপত্তা চেয়ে সিইও-কে চিঠি আট জেলার কর্মীদের

ফলে আগামী দিনে কাজ করতে গিয়ে তাঁরা আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে রাজ্যের আটটি জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলি নিয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে বিএলওদের নিরাপত্তার দাবিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নীলম মিনাকে চিঠি দিল ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:০০

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করতে চলেছেন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-রা। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্যদের নাম ফের নথিভুক্ত করার পাশাপাশি নতুন যোগ্য ভোটারদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই কাজ ঘিরেই নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিএলওদের একাংশের মধ্যে। তাঁদের দাবি, অতীতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় বিএলওদেরই দায়ী করে হেনস্থা করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে কাজ করতে গিয়ে তাঁরা আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে রাজ্যের আটটি জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলি নিয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে বিএলওদের নিরাপত্তার দাবিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নীলম মিনাকে চিঠি দিল ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চ।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুরনো ও নতুন ভোটার তালিকা মিলিয়ে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে হবে। এরপর বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে বিএলওদের। এই নির্দেশ সামনে আসার পরেই সিইও-কে চিঠি দেয় বিএলও সংগঠন। তাঁদের আশঙ্কা, প্রত্যেক বিএলও-র সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকলে মাঠে নেমে কাজ করার সময় তাঁরা সমস্যায় পড়তে পারেন। এমনকি হামলার আশঙ্কাও রয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।

ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চের সম্পাদক স্বপন মণ্ডল চিঠিতে আটটি জেলার কথা উল্লেখ করেছেন। তালিকায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলির কিছু অংশ, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং কলকাতার একাংশ। সংগঠনের দাবি, এই এলাকাগুলিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। অথচ নাম বাদ যাওয়ার ক্ষেত্রে বিএলওদের কোনও ভূমিকা ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁদের দায়ী করে অতীতে হেনস্থা করা হয়েছে। এবার ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বিএলওদের একাংশের।

স্বপন মণ্ডলের দাবি, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে যাঁরা বৈধ, তাঁদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। ইতিমধ্যেই বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর চলাকালীন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৮-১৯ লক্ষ ভোটার বৈধ বলে সংগঠনের দাবি। স্বপনের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ হওয়ায় পরে তা ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত গড়ায় এবং জটিলতা আরও বাড়ে। এর ফলে বহু মানুষ ভোটদানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনের। সেই ক্ষোভের প্রভাব এবার বিএলওদের উপর পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা তাঁদের। স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়ে বিএলওদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। প্রতিটি বিএলও-র সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী বা প্রয়োজনীয় বাহিনী দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’’


Share