Swasthya Bhawan

টাকার বিনিময়ে রক্ত পাচারের অভিযোগ! কড়া পদক্ষেপ স্বাস্থ্যভবনের, ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্তদান শিবিরে নিষেধাজ্ঞা জারি

স্বাস্থ্য দফতর সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। শুক্রবার রাজ্য সরকারের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ ০১:৪৩

টাকার বিনিময়ে পাচার হচ্ছে রক্ত। উঠছে রক্ত নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ। এ বার এই দুর্নীতির অভিযোগের স্বাস্থ্যভবনের কড়া সিদ্ধান্তে রাজ্যের ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্তদান শিবির আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি আর কোনও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে পারবে না। স্বাস্থ্য দফতর সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। শুক্রবার রাজ্য সরকারের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের নামও প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজ্যের একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্যভবন। জানানো হয়েছে, ১ অগস্ট থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বাইরে রক্তদান শিবির আয়োজনের উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। অভিযোগ, শিবির পরিচালনায় নানা অনিয়মের পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে রক্ত ও প্লাজ়মা বাইরে পাচারের ঘটনাও সামনে এসেছে। পুরো বিষয়টির তদন্ত করছে রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ। তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের বাইরে রক্তদান শিবির আয়োজনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ব্লাড ব্যাঙ্কের নিজস্ব পরিসরে রক্ত সংগ্রহ ও লেনদেন স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। তবে তা করতে হবে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীদের মাধ্যমে এবং সমস্ত নির্ধারিত বিধি মেনে। পাশাপাশি, রাজ্যের কোথাও রক্তের বড় ধরনের লেনদেন হলে তা অবিলম্বে রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।

সরকারি নির্দেশে আপাতত রক্তদান শিবির আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে কলকাতা ও জেলার একাধিক ব্লাড সেন্টারের ক্ষেত্রে। এই তালিকায় রয়েছে সোনারপুরের কালিকাপুরের ইস্পাত কো-অপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার, এন্টালির লিন্টন স্ট্রিটের লাইফ কেয়ার ব্লাড সেন্টার, জোধপুর পার্কের অশোক ল্যাবরেটরি ব্লাড সেন্টার, আলিপুরের কোঠারি মেডিকেল সেন্টারের ব্লাড সেন্টার, প্রন্নথ পণ্ডিত স্ট্রিটের হেল্‌থ পয়েন্ট হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার, বেলেঘাটার ওম ব্লাড সেন্টার, হাওড়া পুরসভা ভবনের এইচএমসি রোটারি ব্লাড সেন্টার, নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কৃষ্ণনগর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সের ব্লাড সেন্টার, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের উপসম ওম ব্লাড সেন্টার, পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের টেরেসা ওম ব্লাড সেন্টার এবং পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডাল মোড়ের রানিগঞ্জ ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসের ব্লাড সেন্টার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই কেন্দ্রগুলির রক্তদান শিবির আয়োজন বন্ধ থাকবে।

রক্তদান শিবিরে একাধিক অনিয়ম ও কথিত রক্ত-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা কলকাতা-সহ জেলার বিভিন্ন ব্লাড সেন্টারে তল্লাশি চালান। অভিযানের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই ১১টি ব্লাড সেন্টারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, রক্তদান শিবির আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি বহু ক্ষেত্রেই। পাশাপাশি রক্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়াতেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মোটা টাকার বিনিময়ে লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাজমা ভিন্‌রাজ্যে পাচারের অভিযোগও সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই এই অভিযোগগুলির তদন্ত শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্লাড সেন্টারগুলির মাধ্যমে নতুন করে কোনও রক্তদান শিবির আয়োজন করা যাবে না।


Share