Agnimitra Paul

বিজেপিতে তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স! ‘ডিটার্জেন্টে ধুয়ে আনিনি’, বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা পাল, মিথ্যা অভিযোগ করলেও হবে কড়া ব্যবস্থা

তাঁর দাবি, কারও বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজন হলে দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে।

অগ্নিমিত্রা পাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৩

এ বার শমীক ভট্টাচার্য ও দিলীপ ঘোষের পর একই সুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তোলাবাজির অভিযোগে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, কারও বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজন হলে দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কড়া সমালোচনাও করেন বিজেপি নেত্রী।

সম্প্রতি তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলীয় নেতা-কর্মীদের কড়া বার্তা দেন। তিনি ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সতর্ক করেন, এই সময়ের মধ্যে আচরণে পরিবর্তন না এলে দল কঠোর পদক্ষেপ করবে। পাশাপাশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এরপর একই ইস্যুতে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ আরও কড়া অবস্থান নেন। তিনি স্পষ্ট জানান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এ বার সেই একই সুরে তোলাবাজির বিরুদ্ধে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জিরো টলারেন্সের বার্তা দিলেন।

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগকে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে বিজেপি। ভোটের আগে এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে প্রচার চালানো হয়েছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পরও বিভিন্ন জায়গা থেকে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে বলে বিরোধীদের দাবি। এই প্রসঙ্গে সোমবার অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘তোলাবাজির বিষয়টা থেকে তো যাবেই। সবাইকে তো আমরা ডিটার্জেন্ট বা ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে আনিনি। তারা তো রক্তমাংসের মানুষ। এখন সরকারে এসেছে। অনেকে ভাবছে, এ ভাবে রোজগার করব। কিন্তু আমাদের রাজ্য সভাপতি, মুখ্যমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন।’’ তিনি আরও জানান, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য চারটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বেআইনি টোল ট্যাক্স, বেআইনি সিন্ডিকেট, তোলাবাজি আর মদের ঠেক নিয়ে চারটে হেল্পলাইন নম্বর তো দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ সেখানে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।’’

অগ্নিমিত্রা পাল জানান, হেল্পলাইন নম্বরে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বা কাউকে মিথ্যা ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আপনি সামনে আসতে না চাইলে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারেন। কিন্তু যদি ব্যক্তিগত অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন, আপনার ফোন নম্বরও আমাদের কাছে থাকবে। সেক্ষেত্রে আপনার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে।’’

তোলাবাজির অভিযোগে দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বিজেপি নেত্রী বলেন, এ বিষয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশই চূড়ান্ত। তাঁর কথায়, ‘‘এ ব্যাপারে আমাদের রাজ্য সভাপতির কথাই চূড়ান্ত। তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন এগুলো করলে দল থেকে বার করে দেওয়া হবে। সম্ভবত বহিষ্কার করাও হয়েছে কয়েক জনকে। আমরা এ নিয়ে কোনও ডিল করি না। সামনে একটা কথা বলব, আর ভিতরে ভিতরে বলব তোলাবাজি চালিয়ে যাও, ৭০-৩০ শতাংশ হিসাবে ভাগ করো এগুলো আমরা করি না। আমরা আগের সরকারের মতো নই। যা বলি, সেটাই করি।’’

দলের মধ্যে তোলাবাজি নিয়ে সোমবারও কড়া বার্তা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, এই বিষয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নজরদারি চালাচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ২০০-রও বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিলীপের বক্তব্য, ‘‘তোলাবাজি সংস্কৃতি তো এত সহজে উঠে যাবে না। তবে পার্টি নজর রেখেছে। বিজেপির কেউ তোলাবাজি করলে পুলিশ আর দলকে জানান। সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর অধিকার আছে। ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আমরা সাসপেন্ড করেছি। প্রক্রিয়া চলছে।’’


Share