Dharmatala Incident

ছাত্র আন্দোলনের নামে ধর্মতলায় ‘অশান্তি’, প্রতিবাদে সোমবার পথে নামছে বিজেপি, মঙ্গলবার কর্মসূচি করবে সঙ্ঘের সংগঠনগুলি

শুক্রবার সিপিএমের ছাত্র সংগঠনগুলি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেছে। সেদিন তথাকথিত আন্দোলনের নামে কার্যত নৈরাজ্য দেখেছে গোটা রাজ্যবাসী।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১২:০৩

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে। কিন্তু কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি। শুক্রবারের ধর্মতলায় সিপিএমের ছাত্র সংগঠনগুলির মিছিলে ‘নৈরাজ‍্য’-র প্রতিবাদ জানিয়ে পথে নামতে চলেছে বিজেপি। বিজেপি সোমবার দুপুরে মিছিল করবে। মঙ্গলবার পথে নামছে সঙ্ঘের শিক্ষা সংগঠনগুলি। দু’টি মিছিলই ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে এসে শেষ হবে।

শুক্রবার সিপিএমের ছাত্র সংগঠনগুলি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেছে। সেদিন তথাকথিত আন্দোলনের নামে কার্যত নৈরাজ্য দেখেছে গোটা রাজ্যবাসী। কলকাতার রাস্তায় কার্যত দুষ্কৃতীদের দখলে চলে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, বোতল, জুতো ছোঁড়া হয়। পাল্টা পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তাতে একজনের মাথা ফেটেছে বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের হাতে নিগ্রিহিত হতে হয়েছে সাংবাদিকদের। একাধিক সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। মহিলা সাংবাদিকের শ্লীলতাহানী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সেই দিন সন্ধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, এই ঘটনার নেপথ্যে ‘শুক্রবারি’-রা রয়েছে। সেই দিন জুম্মাবার ছিল। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “কাউকে রেয়াত করা হবে না। অপেক্ষা করুন।” এর পরেই সোমবার একটি মিছিলের আয়োজন করতে উত্তর কলকাতা বিজেপির নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন।

সোমবার মিছিলটি শুরু হবে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে। সেখানেই বিজেপির নেতা-কর্মীরা জমায়েত শুরু করবেন। তার পরে মিছিলটি মৌলালি হয়ে এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছোবে। তমোঘ্ন ঘোষ, তাপস রায় এবং রিতেশ তিওয়ারিরা এই মিছিলের আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন। এই বিষয়ে উত্তর কলকাতার বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, “আমরা নৈরাজ্য এবং অরাজকতার বিরুদ্ধেই রাস্তায় নামছি। তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে পারে। কিন্তু আন্দোলনের নামে গুন্ডামি আমরা মেনে নেব না। আজাদি স্লোগান আমরা কোনও ভাবেই চলতে দেব না।”

মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি এই ঘটনায় জড়িতদের দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এমন শাস্তি দেওয়া হবে, তিন পুরুষ মনে রাখবে। সদ‍্য পাশ হওয়া গুন্ডা দমন আইনে মামলা রুজু করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের হাতে ১৪ জন ‘শুক্রবারি’ গ্রেফতার হয়েছে। এক দিকে যেমন সরকার তৎপরতা শুরু করেছে অন‍্য দিকে বিজেপিও রাজনৈতিক ভাবে আসরে নামছে। যদিও এই মিছিলে মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থাকছেন না। তিনি সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাবেন বলে জানিয়ে ছিলেন। 

অন‍্য দিকে, মঙ্গলবার পথে নামছে সঙ্ঘের একাধিক শিক্ষা সংগঠন। এই মিছিলে মূলত অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি), অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (এবিআরএসএম), ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল (বিএসএম), বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সঙ্কলন সমিতি ইত্যাদি সংগঠন। তাঁরা ওই দিন হাওড়া এবং শিয়ালদহে জমায়েত করবে। দু’দিক থেকে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল ডোরিনা ক্রসিংয়ে এসে শেষ হবে। পরে রানি রাসমণি রোডে একটি সভা করারও কথা রয়েছে তাঁদের। মিছিলটি শুরু হবে বেলা ১২টা থেকে। মিছিলটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সুরক্ষা মঞ্চের ব‍্যানারে হবে। 

এই বিষয়ে এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকন্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, "ছাত্রসমাজের ন্যায্য দাবি ও উদ্বেগকে সামনে রেখে কোনও আন্দোলন হলে তা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং গঠনমূলক হওয়া উচিত। কিন্তু কিছু বামপন্থীরা ছাত্রদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে। দেশবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

সাংবাদিকদের ওপরে হামলার নিন্দা জানিয়ে নিয়ে নীলকন্ঠ বলেন, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত করা হয়েছে। এবিভিপির মনে করে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার পথ কখনও সহিংসতা, বিভ্রান্তি বা দেশবিরোধী প্রচার হতে পারে না। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, গণতান্ত্রিক সংলাপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমেই শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।"


Share