Municipal Election

পুরভোটে প্রার্থী বাছতে অভিনব কৌশল বিজেপির! দলীয় অফিসে ড্রপবক্স, সোমবার থেকেই জমা নেওয়া হবে নাম

সোমবার থেকেই সেখানে পছন্দের প্রার্থীর নাম জমা দিতে পারবেন আগ্রহীরা। বিজেপির এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০১

দুর্গাপুজো মিটলেই রাজ্যে পুরভোট? সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে আগেভাগেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে বিজেপি। রবিবার পুরভোটের প্রস্তুতি বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত নিল গেরুয়া শিবির। প্রার্থী বাছাইয়ে এ বার শুধু দলীয় নেতৃত্বের উপর নির্ভর করতে নারাজ তারা। বরং সাধারণ মানুষের মতামত জানতে দলীয় কার্যালয়ে রাখা হবে বিশেষ ‘ড্রপবক্স’। সোমবার থেকেই সেখানে পছন্দের প্রার্থীর নাম জমা দিতে পারবেন আগ্রহীরা। বিজেপির এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

কলকাতার ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনের পুরনো দলীয় কার্যালয়কেই পুরভোটের নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। সেখানেই রাখা থাকবে ড্রপবক্স। বিজেপি কর্মীদের পাশাপাশি চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সমাজসেবী-সহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও নিজেদের বা পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। সুকান্তর বক্তব্য, বিশিষ্ট নাগরিকেরা দূরে বসে শুধু সমালোচনা বা হাততালি না দিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কলকাতা পুরনিগমে ‘প্রোমোটাররাজ’ আর চলতে দেওয়া হবে না। স্বচ্ছ পুরবোর্ড গঠনই বিজেপির লক্ষ্য।

এ দিনের বৈঠক থেকে বাম ও তৃণমূল—দুই শিবিরকেই নিশানা করেন সুকান্ত। তাঁর অভিযোগ, গত ৪৯ বছরে কলকাতার পরিকাঠামো অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে শহরের উন্নয়নে নতুন দিশা দেখানো হবে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ, শুধু দলীয় আনুগত্য নয়, জনসমর্থনও প্রার্থী হওয়ার অন্যতম মাপকাঠি হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।

পুরভোটের আগে যুবসমাজকেও পাশে পেতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তরুণদের শুধু ভোটার কিংবা দর্শক হয়ে না থেকে ‘নতুন কলকাতা’ গড়ার কাজে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুকান্ত। স্টার্টআপ, খেলাধুলো, দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পরিষেবা ও উন্নত গণপরিবহণের মতো বিষয় নিয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক সংলাপের পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন মুখ এবং কৃতী নাগরিকদের রাজনীতিতে জায়গা করে দেওয়ার এই উদ্যোগ পুরভোটে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।


Share