Health Department

জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রে বড় বদল রাজ্যে! ভুয়ো সার্টিফিকেট রুখতে কড়া নিয়ম, বিলম্বিত নথিভুক্তিতে তদন্ত-সহ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি বাধ্যতামূলক

এ বিষয়ে আগেই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন মিলেছিল। বুধবার স্বাস্থ্য দফতরের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হল।

স্বাস্থ্য ভবন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৩:১৫

জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত নথিভুক্তির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করল রাজ্য সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য দফতর ‘রেজিষ্ট্রেশন অফ বার্থস এন্ড ডেথস রুলস, ২০২৬’-এর গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র রুখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

সম্প্রতি জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আবহে এই নথিগুলির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতেই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে নতুন বিধি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে আগেই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন মিলেছিল। বুধবার স্বাস্থ্য দফতরের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হল।

সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত সমস্ত আবেদনপত্রে নাম লিখতে হবে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে- ফার্স্ট নাম, মিডিল নাম, লাস্ট নাম। কোনও অবস্থাতেই নামের সংক্ষিপ্ত রূপ বা আদ্যক্ষর ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া, সমস্ত তারিখ তারিখ-মাস-সাল এই নির্দিষ্ট বিন্যাসে লিখতে হবে। ঠিকানার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্রে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নাম, জেলা, শহর বা গ্রামের নাম, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওয়ার্ড নম্বর, এলাকার নাম, বাড়ি বা হোল্ডিং নম্বর এবং পিন কোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যু শংসাপত্রের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট এস টু দি কস অফ ডেথের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির অসুস্থতার পূর্ববর্তী ইতিহাস থাকলে সেটিও উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া, নির্ধারিত সময়ের পরে জন্ম বা মৃত্যুর নথিভুক্তির ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। কোনও জন্ম বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে নথিভুক্ত না হলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত নথি ও নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন জমা দিতে হবে। নিয়মে বলা হয়েছে, ঘটনার ৩০ দিনের পরে কিন্তু এক বছরের মধ্যে জন্ম বা মৃত্যুর তথ্য রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিলে জেলা রেজিস্ট্রার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি, ৫০ টাকা বিলম্ব ফি, ১৪ নম্বর ফর্ম এবং স্ব-প্রত্যয়িত প্রয়োজনীয় নথি- ইলেকট্রনিক বা অন্য যে কোনও মাধ্যমে- জমা দেওয়ার পরই সেই জন্ম বা মৃত্যুর নথিভুক্তি করা হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও জন্ম বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটার এক বছর পর থেকে দুই বছরের মধ্যে তার নথিভুক্তির আবেদন করা হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ বাধ্যতামূলক হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকেও ১০০ টাকা বিলম্ব ফি জমা দিতে হবে। অন্য দিকে, জন্ম বা মৃত্যুর দুই বছরেরও বেশি সময় পরে নথিভুক্তির আবেদন করা হলে প্রথম শ্রেণির বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিতে হবে। সেই ক্ষেত্রেও ১০০ টাকা বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হবে।

বিলম্বিত জন্ম বা মৃত্যু নথিভুক্তির আবেদন এলে অনুমোদন দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ জমা পড়া সমস্ত নথি বিস্তারিতভাবে যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে সরেজমিনে তদন্তও করা হবে। কোনও তথ্য বা নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাইতে পারবেন বা বিষয়টি আরও যাচাইয়ের জন্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারবেন।

যাচাইয়ে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য মিথ্যা, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণিত হলে লিখিত কারণ দর্শিয়ে আবেদন খারিজ করার ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের। তবে সেই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে আবেদনকারী প্রত্যাখ্যানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চিফ রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

অননুমোদিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগবেই। তা অন্তত এমবিবিএস ডিগ্রিধারী, মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ও ওয়েস্ট বেঙ্গল কাউন্সিলে স্বীকৃত চিকিৎসক বা স্বীকৃত আযূষ চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


Share