Special Intensive Rivision

জন্মের আগেই বার্থ সার্টিফিকেট! বরাহনগরে ভোটার তথ্য যাচাইয়ে ধরা পড়ল গরমিল, আইনানুগ পদক্ষেপের নির্দেশ কমিশনের

নির্বাচন কমিশনে আগেই জানিয়েছিল, কোনও অবৈধ ভোটার তালিকা থাকবে না। আবার কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে না। এখন শেষ পর্যন্ত কতটা নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা যায়, তা-ই এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেদিকেই নজর রেখেছে রাজনৈতিক মহল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানির কাজ প্রায় শেষ। শুনানিতে ডাকা ভোটারদের তথ্য যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে। এ বার তা করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর গরমিল সামনে এল বরাহনগর বিধানসভার ভোটার তালিকায়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ভোটারের জন্ম তারিখ ১৯৯৩ সালের ৬ মার্চ। কিন্তু তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে তার ঠিক দু’দিন আগে, অর্থাৎ  ১৯৯৩ সালের ৪ মার্চ।এই অসঙ্গতি ধরা পড়তেই কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।

বারংবার যাচাইয়ের পর কমিশন সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-কে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত ভাবে নির্দেশ দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই ভোটারের নাম পাপিল সরকার। কমিশনের মনে করছে, জন্মের আগেই জন্মের শংসাপত্র তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। ফলে তথ্যের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। শংসাপত্রটি কি জাল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোথা থেকে এই ধরনের শংসাপত্র এল তা নিয়েও হতে পারে তদন্ত। সূত্রের খবর, তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

এসআইআর শুরুর সময় কমিশনের দেওয়া এনিউমারেশন ফর্মে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল ভুল তথ্য দিলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভোটারের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। সেই নির্দেশিকা মেনেই ওই ভোটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পথে নামল নির্বাচন কমিশন।

এদিকে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির ৫৫ নম্বর পার্টের ভোটার আলাউদ্দিন শেখের ক্ষেত্রেও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি জন্মতারিখের ঘরে পূর্ণ তারিখ না লিখে “xx/xx/১৯৮৭” উল্লেখ করেছেন। কমিশনের মতে, তিনি ভুল এবং অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। এই ক্ষেত্রেও আইনানুগ পদক্ষেপের নিতে নির্বাচন কমিশন ইআরও-কে নির্দেশ দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, এসআইআর চলাকালীন বহু ভোটারের দেওয়া তথ্যে গরমিল ধরা পড়ছে। কমিশন মনে করছে, এ সব তথ্য নিখুঁত ভাবে যাচাই করতে সময় এবং লোকবল দুটিরই প্রয়োজন। তবুও সব প্রতিকূলতা সামলে স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রকাশ করাই কমিশনের এক এবং লক্ষ্য।

নির্বাচন কমিশনে আগেই জানিয়েছিল, কোনও অবৈধ ভোটার তালিকা থাকবে না। আবার কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে না। এখন শেষ পর্যন্ত কতটা নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা যায়, তা-ই এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেদিকেই নজর রেখেছে রাজনৈতিক মহল।


Share