7th Pay Commission

সপ্তম পে কমিশনে বড় ঘোষণা! তিন শতাংশ থেকে পাঁচ শতাংশ হতে পারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বদলাতে পারে ডিএ-র নিয়ম

সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কাঠামো পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্যের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য নিয়েও কমিশনকে পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১১:১২

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। কমিশনের কাজের পরিধি এবং বিবেচ্য বিষয়গুলি নির্দিষ্ট করে নবান্ন শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল। প্রস্তাবিত কমিশন বেতন কাঠামো, ন্যূনতম বেতন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে বেতন স্তরের সামঞ্জস্য, মহার্ঘ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা এবং অবসরকালীন সুবিধা-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করবে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যৌথ ভাবে সেই ঘোষণা করেন। শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ মে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম রাজ্য পে কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর থেকেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশনের কাজের ক্ষেত্র এবং কোন কোন বিষয় তার পর্যালোচনার আওতায় থাকবে, তা স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কাঠামো পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্যের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য নিয়েও কমিশনকে পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের সময় দৈনিক ৩৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে মানদণ্ড হিসেবে ধরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এত দিন ব্যবহৃত দু'হাজার ৭০০ ক্যালোরির পুরনো মানদণ্ডের পরিবর্তে নতুন এই ভিত্তি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

সপ্তম পে কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার তিন শতাংশ। সেটি বাড়িয়ে অন্তত পাঁচ শতাংশ করা যায় কি না, কমিশনকে তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে-ম্যাট্রিক্স তৈরির বিষয়টিও কমিশনের কার্যপরিধিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পে কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য আনার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। একই ‘পে লেভেল’-এর ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় স্তরে বেতন কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বা অচল বেতনস্তরগুলি একত্রিত করার বিষয়টিও কমিশন পর্যালোচনা করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো নিয়ে অপ্রয়োজনীয় মামলা-মোকদ্দমা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মহার্ঘ্য ভাতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ)-র সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে নিয়মিত ভাবে ডিএ প্রদানের জন্য ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ জারির সুপারিশ করা যায় কি না, সেটিও সপ্তম পে কমিশন খতিয়ে দেখবে। এ ছাড়াও সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার তারিখ নিয়েও আলোচনা হবে। বাড়ি ভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভর্তুকি-সহ অন্যান্য ভাতার পরিমাণ ও নিয়ম কেন্দ্রীয় পে কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতার ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধও নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রস্তাব রয়েছে।

অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রেও সপ্তম পে কমিশন একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করবে। ‘শর্তাবলি ও কার্যপরিধি’-তে কমিউটেড পেনশন ১১ বছর পর পুনরুদ্ধার, অবসরের সময় ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া সরকারি কর্মীদের একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিমেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে আট, ১৫ ও ২৪ বছর অন্তর তিন ধাপের যে কাঠামো রয়েছে, তার পরিবর্তে পাঁচ, আট, ১২, ১৮ ও ২৪ বছর অন্তর পাঁচ ধাপের কাঠামো চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও, সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পে নগদহীন চিকিৎসা পরিষেবা আরও সম্প্রসারণ, চিকিৎসকদের ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ও কমিশনের বিবেচ্য বিষয়ের তালিকায় রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, সপ্তম পে কমিশনের ‘শর্তাবলি ও কার্যপরিধি’-তে শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয়ই নয়, সরকারি কর্মচারীদের সামগ্রিক চাকরির শর্ত, বিভিন্ন ভাতা, পদোন্নতি, অবসরকালীন সুবিধা এবং কর্মপরিবেশের মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছেন। এখন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।

প্রসঙ্গত, ডিএ-র পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন চালুর দাবিও দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মচারীদের একাংশ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছিলেন। রাজ্যে সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা ঘোষণা করেন। এ বার কমিশনের কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ায় সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল বলেই মনে করছেন নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশ।


Share